পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। সিআইডি একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে আইনগত পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সিআইডির মুখপাত্র জসিম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।
খসড়া চার্জশিট জমা
তিনি বলেন, "অপরাধ তদন্ত বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মোট ৬৪ জন দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া চার্জশিট চূড়ান্ত আইনগত পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।"
দীর্ঘ তদন্তের ফল
সিআইডি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় ১০ বছরের বেশি সময় তদন্তের পর এই খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এই মামলায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকদের দায়ী করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দিয়ে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনগত পরামর্শ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের তালিকা
রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ. খান, সাবেক জেনারেল ম্যানেজার এ.এফ.এম. আসাদুজ্জামান এবং ডেপুটি ডিরেক্টর জোবায়ের বিন হুদা। ভারতীয় অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন রাকেশ আস্থানা, যিনি সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি উপদেষ্টা ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাত হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টে এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।



