সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই যেখানে নাগরিক জীবনকে সহজ, নিরাপদ এবং গতিশীল করা; সেখানে খুলনার কয়রা উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন প্রকল্পগুলো বিপরীত চিত্র হাজির করেছে। সম্প্রতি প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর ধরে খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কাজ আংশিক করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে গেছে, কোথাও আবার পুরো প্রকল্পই স্থবির। ফলে বর্ষায় কাদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালু—বছরজুড়ে এক অন্তহীন জনভোগান্তি তৈরি হয়েছে সেখানে।
অসমাপ্ত সড়কের নমুনা
কয়রা সদর ইউনিয়নের প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ যেখানে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে চার বছর পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হওয়া দূরে থাক, উল্টো ইটের খোয়া ফেলার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় এই রাস্তা এখন দুর্ভোগেরই উৎস হয়ে আছে। আরও করুণ চিত্র দেখা যায় মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাড়ে ছয় কিলোমিটার এক রাস্তায়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার থাকলেও প্রকল্পের কাজ প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে জানা গেছে। আমাদী ইউনিয়নের দুই কিলোমিটার রাস্তার সংস্কারকাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একইভাবে এখনো শেষ হয়নি। একইভাবে আরও কয়েকটি সড়কের কাজ ঝুলে আছে বলে সংবাদে উঠে এসেছে।
দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ
কয়রায় সড়কের সামান্য খোঁড়াখুঁড়ি করে ঠিকাদারদের কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়া যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতাই প্রকল্পগুলোর এই দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ। যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় সমস্যার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি কয়রা উপজেলায় বর্তমানে কোনো স্থায়ী উপজেলা প্রকৌশলী নেই; পাশের পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
প্রভাব ও করণীয়
সড়কের এই বেহাল যেমন দুর্ঘটনা বৃদ্ধি করতে পারে, তেমনি এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্থনীতি, ব্যাহত হয় চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবা। এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত কয়রা উপজেলার এই চরম জনদুর্ভোগ আমলে নিয়ে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। জনবলসংকট ও সমন্বয়হীনতা দূর করে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যেন সময়মতো কাজ শেষ হয়। যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বা কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছে, তাদের ব্যর্থতার কারণ যেমন অনুসন্ধান করতে হবে, তেমনি তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।



