১৮ বছর ধরে অচল সাড়ে ১৪ কোটি টাকার সেতু, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
১৮ বছর অচল ১৪ কোটি টাকার সেতু, দুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব ঘাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় ডলু নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বাস্তবায়িত প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি ১৮ বছর ধরে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় জনগণের কাজে না এসে প্রকল্পটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা

সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব ঘাটিয়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ডলু নদীর ওপর নির্মিত ৯৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটির দুই পাশে ঝোপঝাড়, ভাঙা মাটি ও অসম্পূর্ণ রাস্তা পড়ে আছে। কোথাও কোথাও সংযোগ অংশে মাটিধসের চিহ্নও দেখা গেছে। স্থানীয়রা স্ব-উদ্যোগে সেতুর দুই পাশে সিঁড়ি তৈরি করে চলাচল করলেও যানবাহন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেতুর বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া থেকে আমিলাইশ, কাঞ্চনা ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নে মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় গতি আনতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেতুটি চালু না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। খালের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের আগের মতোই কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। তারা দাবি করেন, দ্রুত ভূমি জটিলতা নিরসন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো অচিরেই পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্পের ইতিহাস

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১৯ নভেম্বর দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রথম দরপত্র আহ্বান করেন। পরে ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৯৩ মিটার দীর্ঘ স্থায়ী ভিত্তির পিএসবি সেতুর নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে এবং ২০০৮ সালের ৩০ জুন প্রথম কার্যাদেশের কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়। তবে পরবর্তীতে আবারও নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে পুনরায় পিএসবি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী প্রকল্পটির শুভ উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হয়। দুই দফার প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা; কিন্তু এখনো সেতুটি পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের দুঃখ কেউ দেখে না। জনপ্রতিনিধি আসে আর যায়, কিন্তু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় না। কোটি টাকার সেতু বানিয়েছে, অথচ মানুষ চলাচলের রাস্তা নেই। তিনি আরও বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকির অভাবেই এ ধরনের প্রকল্প জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো ব্যবহার না হওয়ায় একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণও প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আবুল কাশেম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এক সময় নৌকায় পারাপারই ছিল প্রধান ভরসা। নৌকা ডুবে কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হওয়ার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়; কিন্তু ভূমি জটিলতা থাকলে প্রকল্প অনুমোদন ও কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলো কিভাবে? জমি অধিগ্রহণ ও সংযোগ সড়কের বিষয় নিশ্চিত না করেই কেন কাজ শুরু করা হয়েছিল—এ প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

সওজ প্রকৌশলীর বক্তব্য

এ বিষয়ে সওজের দোহাজারী সড়ক উপবিভাগের প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, ভূমি জটিলতার কারণে সড়কটি দিন দিন অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ছে। ভূমি জটিলতা দূর হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সহজ হবে।