হ্যারি কেইনের অসাধারণ উত্থানের পেছনের গল্প
হ্যারি কেইনের উত্থানের পেছনের গল্প

হ্যারি কেইনের অসাধারণ উত্থানের পেছনের কথা

ফুটবলের ইতিহাসের তারকাদের শুরু থেকেই সবাই চিনতেন। কিন্তু হ্যারি কেইন সেই ইতিহাসের অংশ নন। তাকে নিয়ে প্রথম দিন থেকেই বিস্ময় ছিল না, ছিল সন্দেহ। সেই সন্দেহকে পেরিয়েই কেইন হয়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক, দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কার্যকর ফরোয়ার্ডদের একজন।

১৯৯৩ সালের ২৮ জুলাই, লন্ডনের লেইটনস্টোনে জন্ম নেওয়া কেইনের ফুটবল যাত্রা শুরু হয় স্থানীয় পর্যায়ে। শৈশবে তিনি কয়েকটি একাডেমি ঘুরে শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেন টটেনহ্যাম হটস্পারের বয়সভিত্তিক দলে। এখানেও তার পথ মসৃণ ছিল না। মনে করা হতো কেইন ধীরগতির ও দুর্বল, বড় তারকা হওয়ার মতো স্বাভাবিক প্রতিভাও নেই।

পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে বারবার ধারে পাঠানো হয়। লেইটন ওরিয়েন্ট, মিলওয়াল, নরউইচ সিটি ও লেস্টার সিটিতে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্তরের ফুটবল। তখনও কেউ ভাবেনি এই ছেলেটিই একদিন ইংল্যান্ডের ইতিহাস বদলে দেবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবর্তনের সূচনা

পরিবর্তনটা আসে ২০১৪–১৫ মৌসুমে। টটেনহ্যামের জার্সিতে কেইন নিয়মিত সুযোগ পান এবং মৌসুম শেষ করেন ৩১ গোল নিয়ে। সেই মৌসুমেই জেতেন বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি। এরপর শুরু হয় এক দীর্ঘ গোলের যুগ।

একের পর এক মৌসুমে গোল করতে করতে কেইন শুধু ক্লাবেরই আস্থা হননি, হয়ে উঠেছেন রেকর্ড ভাঙার কারিগর। টানা একাধিক মৌসুমে ইংলিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন ছিলেন। ২০১৭ সালে ক্যালেন্ডার বছরে তার গোলসংখ্যা এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য করা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যান ইউরোপীয় গোলের হিসাবে।

টটেনহ্যামের হয়ে ২৮০টি গোল করে তিনি ছাড়িয়ে যান বহুদিনের কিংবদন্তি রেকর্ড। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকাতেও উঠে আসেন শীর্ষদের কাতারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাতীয় দলে উত্থান

জাতীয় দলে কেইনের গল্প আরও নাটকীয়। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে মাত্র ৭৯ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন। সেখান থেকেই শুরু। পরে অধিনায়কত্ব পান এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম।

২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল তার বিশ্বমঞ্চে বিস্ফোরণ। রাশিয়ায় ছয় গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন বুট এবং ইংল্যান্ডকে বহু বছরের অপেক্ষা শেষে সেমিফাইনালে তোলেন। এরপর উয়েফা ইউরো ২০২০–এ দলকে ফাইনালে নিয়ে যান।

বায়ার্ন মিউনিখে নতুন অধ্যায়

ইংল্যান্ড ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি দেন কেইন। ২০২৩ সালে তিনি যোগ দেন এফসি বায়ার্ন মিউনিখে। তখন এটি ছিল বুন্দেসলিগার ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্রান্সফার। প্রথম মৌসুমেই লিগে ৩৬ গোল করে জেতেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। পরের মৌসুমে আসে তার ক্যারিয়ারের প্রথম বড় শিরোপা।

আজকের কেইন শুধু গোলই করেন না, নিচে নেমে বল নেন, আক্রমণ তৈরি করেন, পাস দেন, আবার বক্সে ঢুকে শেষ স্পর্শও দেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সই তাকে আলাদা করেছে। বিশ্লেষকদের চোখে কেইন আধুনিক যুগের সবচেয়ে পারফেক্ট নম্বর নাইনদের একজন।

বিশ্বকাপ ২০২৬ এ নতুন রেকর্ড

চলতি বিশ্বকাপেও তিনি নতুন অধ্যায় লিখে চলেছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪–২ ব্যবধানে জেতানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। একই ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও গড়েছেন।