ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ
খেলাধুলায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এবং ক্রীড়াবিদদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকারের চালু করা ‘ক্রীড়া ভাতা ও কার্ড’ কর্মসূচি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে রবিবার নতুন করে আরও ১৭১ জন প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের এই কর্মসূচির অধীনে মোট ক্রীড়াবিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে।
অনুষ্ঠানে ভাতা ও কার্ড বিতরণ
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং ১ লাখ টাকা করে ভাতার চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নতুন এই তালিকায় ফুটবল, হকি ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের স্থান দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নারী হকি দলের অন্তর্ভুক্তি
এবারের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো প্রথমবারের মতো গঠিত হওয়া জাতীয় নারী হকি দলের অন্তর্ভুক্তি। এই দলটি আজ রাতেই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। দেশ ছাড়ার আগে এই স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা তাদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হামজা-শমিতদের বাদ দেওয়ার কারণ
তবে নতুন তালিকায় হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুল ইসলামের মতো জনপ্রিয় ফুটবলারদের স্থান হয়নি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, যাদের এই ভাতা ও কার্ড বেশি প্রয়োজন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুল ইসলাম—তারা দেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং সেখানেই খেলেন। আর্থিক দিক থেকেও তারা তুলনামূলকভাবে স্বাবলম্বী। তাই আপাতত এই কর্মসূচির আওতায় তাদের রাখা হয়নি।
জাতীয় দলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারের এমন উদ্যোগে হামজাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি তাদের প্রতি একধরনের সম্মান প্রদর্শন হতো। কারণ তারাও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
মোরসালিনসহ ফুটবলারদের সুবিধা
এদিকে মোরসালিনসহ মোট ১৮ জন ফুটবলার এই ভাতা পেয়েছেন। তাদের আর্থিক ভিত্তি ও বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি স্থায়ী আর্থিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



