সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য, প্রস্তুতি পরিকল্পনা ঘোষণা
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য

আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এবারের আসরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সুযোগ নিয়ে আসছে। বাফুফে ইতিমধ্যে দলের প্রস্তুতির জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যদিও অনুশীলনের সঠিক তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

প্রস্তুতির প্রথম ধাপ ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা

বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম গতকাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অনুশীলন ক্যাম্প করার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে অনুশীলন শুরু হবে চট্টগ্রাম ও ঢাকায়, তবে ক্যাম্প এখনই শুরু হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো খেলোয়াড়রা সম্প্রতি অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন, যার ফলে তাদের শরীরে ধকল পড়েছে। কোচ পিটার বাটলারও এই বিষয়ে একমত পোষণ করে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরি মনে করছেন। তিনি নিজেই এবার একটু দেরিতে অনুশীলন শুরু করতে চাইছেন, যাতে দলটি তাজা ও প্রাণবন্ত অবস্থায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।

বিদেশে ক্যাম্প ও প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা

দলের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে বাফুফে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। ফাহাদ করিম জানিয়েছেন যে চীন এবং থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার আলোচনা বর্তমানে চলছে। এছাড়াও, দেশের বাইরে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সম্ভাবনা রয়েছে, যা চীন বা থাইল্যান্ডের যেকোনো একটি দেশে দুই সপ্তাহের জন্য হতে পারে। এই ক্যাম্পের সময় স্থানীয় ক্লাব ফুটবল দলের সঙ্গেও ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দলকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে। বিদেশি ক্যাম্প শেষ করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ২১ মে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। মূল প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে গোয়ায় পৌঁছানো হবে, কারণ আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দুই দিন আগে যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ফাহাদ করিম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা

নারী সাফের দলে প্রবাসী ফুটবলারদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। ফাহাদ করিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'আমরা ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী নতুন দুজন প্রবাসী ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলছি। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে।' যদিও সময় স্বল্পতার কারণে প্রবাসী ফুটবলাররা আসন্ন সাফে খেলতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমস ফুটবলের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি দলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাফুফের এই উদ্যোগগুলো দলের সাফল্যের পথকে আরও মসৃণ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।