ইরানের 'শত্রু' দেশে খেলা নিষেধাজ্ঞা, ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ অনিশ্চিত
ইরানের শত্রু দেশে খেলা নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বকাপ ম্যাচ অনিশ্চিত

ইরানের নাটকীয় সিদ্ধান্ত: শত্রু দেশে খেলা নিষিদ্ধ, বিশ্বকাপ ম্যাচ অনিশ্চিত

ইরান সরকার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির ক্রীড়া জগতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোতে জাতীয় দল বা ক্লাব দলের অংশগ্রহণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ম্যাচ খেলা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পটভূমি ও তাৎক্ষণিক প্রভাব

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব দেশ শত্রুভাবাপন্ন এবং ইরানি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়, সেসব দেশে খেলাধুলার ইভেন্টে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখা হবে। এই ঘোষণাটি এসেছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রায় এক মাস পর, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছিল।

এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগে। ইরানের ক্লাব ট্রাক্টর এফসির সৌদি আরবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফুটবল ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে এএফসিকে অবহিত করতে হবে, যাতে ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের মাত্র কয়েক মাস আগে এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল ইরান। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইরান জি গ্রুপে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে, এবং সূচি অনুযায়ী এই ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান সরকার শত্রুভাবাপন্ন দেশ হিসেবে বিবেচনা করায়, এখন ইরান দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নারী ফুটবল দলের ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রভাব

এদিকে, ইরানের ক্রীড়া নীতির আরেকটি দিক সামনে এসেছে চলতি মাসে নারী এশিয়ান কাপ চলাকালীন। ইরান নারী ফুটবল দলের ছয় খেলোয়াড় ও এক স্টাফ সদস্য জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। তেহরান সরকার তাঁদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যা দিলেও, পরবর্তীতে পাঁচজন ইরানে ফিরে এলেও বাকি দুজন এখনো অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। এই ঘটনা ইরানের ক্রীড়া ও রাজনীতির মধ্যে জটিল সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

ইরানের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ফুটবল নয়, অন্যান্য ক্রীড়া ইভেন্টেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়া জগতে ইরানের বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ইরানের এই পদক্ষেপ কীভাবে সমাধান হবে, তা এখন সবার নজরে।