এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ
নারী ফুটবল এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলের সামনে এখন একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়লাভ করতে পারলে দলটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার দরজা খুলে যাবে। তবে এই কাজটি মোটেও সহজ নয়, কারণ প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৬৩ ধাপ এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি, উজবেকিস্তান টানা পাঁচবার এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে, যা তাদের অভিজ্ঞতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের আত্মবিশ্বাস
পার্থে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার জানিয়েছেন যে দলটি নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, 'কাল আমাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে আমরা সবাই চেষ্টা করবো সেরাটা দেওয়ার। আমাদের এখানে হারানোর কিছু নেই। আমরা প্রথমবার কোয়ালিফাই করেছি, আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি—এটা আমাদের কাছে অনেক গর্বের বিষয়।'
কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস
আফঈদা খন্দকার সাধারণত খুব সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলতে পছন্দ করেন, যা অনেকটা জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের মতো। সংবাদ সম্মেলনে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অধিনায়ক স্পষ্টভাবে বলেছেন, 'আসলে ওভাবে আমি ফলো করি না। মোস্তাফিজুর ভাই যে অবস্থানে আছেন, উনি উনার জায়গায় সেরা। আমি উনাকে (মোস্তাফিজ) ফলো করি না। তবে হ্যাঁ, আমি ক্রিকেট খেলা সেভাবে দেখি না। আমার কাছে মনে হয় কথার চেয়ে কাজ আগে করা ভালো। কথা বলতে গেলে অনেক কিছু বলা যায়, কিন্তু কাজে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না। কাজ করে দেখালে আর কী—কথা না বললেও চলে।'
দেশের মাঠের অবকাঠামো নিয়ে আক্ষেপ
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে আফঈদা খন্দকার দেশের মাঠের অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, যদি দেশের মাঠগুলো ভালো থাকে তাহলে আমরা আরও ভালো প্র্যাকটিস করতে পারবো, আমাদের সুবিধা হবে। আমাদের দেশে একটা ভালো মাঠের খুব প্রয়োজন। সেটি যদি খুব তাড়াতাড়ি করা হয়, তবে দেশের ফুটবলের জন্য অনেক ভালো হবে।' এই মন্তব্য দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে জয়লাভ দলটির জন্য ঐতিহাসিক অর্জন বয়ে আনতে পারে। দলের আত্মবিশ্বাস এবং অধিনায়কের নেতৃত্ব এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



