হঠাতই বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ইংলিশ ফুটবল ক্লাব লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। অন্যান্য সময় জাতীয় ফুটবল দলের অ্যাসাইনমেন্ট থাকলেও এবার তিনি এসেছেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার অ্যাসাইনমেন্টে। সেই সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার নতুন কুড়ি স্পোর্টসের খেলা দেখতে মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল মাঠে গিয়েছিলেন এই তরুণ ফুটবলার। সেখানে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীরা তাকে পেয়ে আনন্দে উদ্বেল হয়ে পড়ে। অনেকে তার সঙ্গে ছবিও তুলে রাখেন।
নতুন কুড়ি স্পোর্টস ও নারী খেলোয়াড়দের মাইলফলক
এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে হামজাসহ বিদেশি কোচ নিয়োগ নিয়ে অনেক কথাই বলতে হয়েছে। নতুন কুড়ি স্পোর্টস প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন কুড়িতে ৪৫ হাজার মেয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছে খেলার জন্য। তো এটা বাংলাদেশের জন্য একটা খুবই মাইলফলক ব্যাপার। হামজা চৌধুরীকে সব ক্রীড়াবিদরাই স্টার হিসেবে গণ্য করে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাহেব এবং হামজা মিলে যে ইন্সপিরেশনটা দিয়েছেন, খালি আজকের এই ফিজিক্যালের মাঠে না, আপনাদের মাধ্যমে যে বার্তাটা পুরা বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে—যে অনেক ইয়াং তরুণ এবং তরুণীরা ইন্সপিরেশন পাবে খেলাধুলাতে থাকার জন্য এবং ভবিষ্যতে খেলার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য।’
বিদেশি কোচ নিয়োগের অগ্রগতি
বিদেশি কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি আরও বলেন, ‘১১ জনের ইন্টারভিউ বর্তমানে অনলাইনে চলছে। আগামীকালও হবে। ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটি ইন্টারভিউগুলো নিচ্ছে। যখন ১১ জনের ইন্টারভিউ চূড়ান্ত করবে, তখন আমরা হয়তো এক্সিকিউটিভ কমিটিতে নিয়ে একটা ফাইনাল কোচের সিদ্ধান্ত নেবো। টার্গেট হলো রবিবারের ভেতর আমরা একটা ফাইনাল ডিসিশনে চলে যাবো। ১৫ মের ভেতরে আমরা চাই নেক্সট কন্ট্রাক্ট সাইন করতে।’
প্রতিকূলতা ও বাজেট বিবেচনা
বিদেশি কোচ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারে সবাই এক্সাইটেড, আমরাও এক্সাইটেড তাদের নিয়ে। কিন্তু বিস্তারিত আলোচনায় গেলেই তো প্রতিকূলতা চলে আসে। তাই আমরা বাংলাদেশের বর্তমান আমাদের অবকাঠামোর ব্যাপারে ডিসকাস করছি, তাদের চাহিদাগুলো শুনছি। যেগুলো বিবেচনার মাধ্যমে ফাইনাল একটা ডিসিশনে চলে যাবো।’
কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাজেট বড় ইস্যু হলেও বাফুফে মূলত বিনিয়োগের বিপরীতে সেরা সাফল্যই খুঁজছেন। বর্তমানে পাঁচজনের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে। তাবিথ বলেছেন, ‘বাজেট হলো কী বিনিয়োগ করছেন, আর তার বিপরীতে আমরা কী পাচ্ছি। আগামী দুই বছরের ক্যালেন্ডারও আমাদের বিবেচনা করতে হবে যে, কী ধরনের টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, কী ধরনের দল গঠন করতে চাই। সব বিবেচনা করে আমরা যখন বিষয়গুলো কোচের সঙ্গে চূড়ান্ত করবো, তখন সম্ভবত সবার শেষে আসবে অর্থের ব্যাপারটা। সেখানে যদি বাজেটের বাইরে চলে যাই, আমি চেষ্টা করবো স্পন্সরদের সঙ্গে, সরকারের সঙ্গে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের জন্য।’



