একসময় শোনা যেত ‘নতুন পেলে’ কিংবা ‘নতুন ম্যারাডোনা’র আগমনী ধ্বনি। এরপর অনেক দিন ছিল ‘নতুন মেসি’ ও ‘নতুন রোনালদো’দের উত্থানের বার্তা। সে পথ পেরিয়ে এখন শোনা যাচ্ছে ‘নতুন হলান্ড’–এর আবির্ভাবের খবর। লিভারপুল কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহর দেশ মিসর থেকে উঠে আসায় যাঁকে বলা হচ্ছে ‘ইজিপশিয়ান হলান্ড’।
বার্সা যুব দলে হামজার দাপট
এই ‘হলান্ড’ খেলেন বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব–১৯ দলে। নাম তাঁর হামজা আবদেলকরিম। রোববার স্প্যানিশ ইয়ুথ অনার ডিভিশনে মন্টে কার্লোকে ৯–০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা অনূর্ধ্ব–১৯। ম্যাচে হামজার হেডিং দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনটি গোল করেছেন, তিনটিই হেডে।
অনূর্ধ্ব–১৯ পর্যায়ের লিগটিতে এরই মধ্যে শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সা। এখন দলটির মনোযোগ চ্যাম্পিয়নস কাপে, যেখানে বার্সা শুরু করবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। দুই লেগের শেষ আট আর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে শেষ হবে বয়সভিত্তিক ফুটবলের মৌসুম। আর এই ম্যাচগুলোতে আলাদাভাবে নজরে থাকবেন ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার হামজা।
বার্সায় যোগদান ও পারফরম্যান্স
১৮ বছর বয়সী হামজা এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আল আহলি থেকে ধারে বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে যোগ দেন। শর্ত অনুযায়ী, মৌসুম শেষে তাঁকে স্থায়ীভাবে ২০ লাখ ইউরোতে কিনতে পারবে বার্সা। শুরুর দিকে অবশ্য প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরে চোটের কারণে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন। তবে মাঠে ফিরে দ্রুতই নিজের জাদু দেখাতে শুরু করেছেন হামজা।
বার্সার বয়সভিত্তিক দলের হয়ে এখন পর্যন্ত হামজা চারটি গোল করেছেন, বিস্ময়করভাবে সব কটিই হেড থেকে। এই অসাধারণ হেডিং দক্ষতার কারণে তাঁকে এরই মধ্যে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করছেন কেউ কেউ।
হামজার খেলার ধরন
সদ্য কৈশোর পেরোনো হামজা ক্ল্যাসিক ‘নাম্বার নাইন’ ঘরানার স্ট্রাইকার। মূলত বাঁ পায়ের খেলোয়াড়, ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখার সামর্থ্যও দেখা গেছে এরই মধ্যে। প্রচলিত নাম্বার নাইনদের মতোই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ফিনিশিং। বিশেষ করে বক্সের ভেতরেই হামজা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে ওঠেন। আর পায়ের পাশাপাশি মাথাতেও যে হামজা কম যান না, সেটি তো এরই মধ্যে প্রমাণিত।
বার্সার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বার্সার মূল দলে রবার্ট লেভানডফস্কির বয়স বাড়ছে, চুক্তিও শেষের দিকে। ফলে বার্সেলোনায় ক্লাসিক ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে একটা শূন্যতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ইজিপশিয়ান হলান্ড’–খ্যাত হামজার দিকে চোখ রাখতে শুরু করেছেন ক্লাবের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বার্সেলোনার খেলোয়াড় তৈরির আঁতুড়ঘর যুব একাডেমি ‘লা মাসিয়া’র মিডিয়া মুখপাত্র পাও কাম্পানিয়া জানিয়েছেন, হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার (বাই-আউট ক্লজ সক্রিয় করা) বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে। ‘মডার্ন স্পোর্টস’ নামের মিসরীয় একটি অনুষ্ঠানে কাম্পানিয়া বলেন, ‘ঘোষণা দেওয়ার বিষয় থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হামজা আবদেলকরিমের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আপাতত আমরা শিরোপা জয়ের আনন্দ উদ্যাপন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত।’



