গত মার্চে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন কমলা রঙের কারুকাজ করা ঝলমলে ফ্রক পরেছিল সাত বছর বয়সী ছোট্ট নুসরাত। চোখে কাজল দিয়ে বেলুন হাতে ছবিও তুলেছিল। মুঠোফোনে সেই ছবিটির দিকে তাকিয়ে উত্তর সোনাপাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা হলো না মেয়েটার। ছবিটার দিকে তাকালেই বুক ভেঙে আসে।’
দুর্ঘটনার বিবরণ
আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার উত্তর সোনাপাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল নুসরাত জাহান। এ বিদ্যালয়েই প্রথম শ্রেণিতে পড়ত সে। বিদ্যালয় ছুটির পর চাচির হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল। পথে বারইয়ারহাট পৌর বাজারের ইউটার্নে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক পারাপারের সময় চাচির কাছ থেকে হঠাৎ তার হাত ছুটে যায়। মুহূর্তেই একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলে। সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বক্তব্য
উত্তর সোনাপাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গাড়িচাপায় নিহত নুসরাত জাহান আমাদের বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের প্রথম শিফটের ছুটি হওয়ায় চাচির হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে জোনাকি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট পৌর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। বাসের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিল সে।’
পরিবারের অবস্থা
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে নুসরাতের বাড়ি গিয়েছিলেন উত্তর সোনাপাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এ সময় প্রধান শিক্ষকও ছিলেন তাঁদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারটি খুব দরিদ্র। নুসরাতেরা তিন বোন। বোনদের মধ্যে সে মেজ। তার তিন মাস বয়সী ছোট একটা বোন আছে। ছোট বোনের জন্য মা তাকে আনা–নেওয়া করতে পারেন না। চাচির সঙ্গে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করে সে।
নুসরাতের লাশ মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়েছে বলে জানান নুসরাতের মামাতো ভাই সালমান বাপ্পি। বাপ্পি বলেন, বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। তার মা নাজমা আক্তারকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
পুলিশের ব্যবস্থা
জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়েছি। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। এ দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



