মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ অনুভূতি। সন্তানের সুখের জন্য একজন মা নিজের সব কিছু উজাড় করে দিতে পারেন। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মাতৃদিবস। এই বিশেষ দিনে সন্তানরা তাদের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। কেউ উপহার দিয়ে, কেউ শুভেচ্ছা জানিয়ে, কেউবা একসঙ্গে সময় কাটিয়ে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল মাতৃদিবস
আধুনিক মাতৃদিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। ফিলাডেলফিয়ার আনা জারভিস ১৯০৭ সালের ১২ মে তার প্রয়াত মায়ের স্মরণে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তার মা আনা রিভস জারভিস ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্র্যাফটনে একটি ‘মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল শিশুমৃত্যুর হার কমানো। নয়টি সন্তান হারানো এই নারী ১৯০৫ সালের ৯ মে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পরের কাছাকাছি রবিবার বেছে নিয়ে আনা জারভিস তার স্মরণে সেই অনুষ্ঠানটি করেন।
এরপর দ্রুতই ধারণাটি ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব রাজ্যে দিনটি পালন শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
ভিন্ন ভিন্ন দেশে মা দিবসের নানা রূপ
দেশে দেশে মাতৃদিবসের উদযাপন ভিন্ন রঙে রাঙানো। জাপানে মায়েদের উপহার দেওয়া ও বিশেষ উৎসব পালনের রেওয়াজ রয়েছে। নেপালে ‘মাতা তীর্থ আউন্সি’ নামের একটি বিশেষ উৎসবে সন্তানরা মায়ের সঙ্গে প্রচুর সময় কাটান। আর ইথিওপিয়ায় বর্ষা শেষের তিন দিনব্যাপী ‘অ্যান্ট্রোস্ট’ উৎসবকে ঘিরে পালিত হয় মাতৃদিবস, যেখানে পরিবারের সবাই একত্র হয়ে রান্না করেন; গান গেয়ে, নেচে দিনটিকে উদযাপন করে থাকেন।



