পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের ছুটিকে আনন্দময় করে তুলতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ঘুরতে এসেছেন এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায়। কেউ ইতিহাস জানতে, কেউবা সন্তানদের দেশের অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এসেছেন নবাবদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাসাদে।
শনিবার (৩০ মে) বিকালে সদরঘাট এলাকার এ প্রাসাদ ঘুরে দেখা যায়, আহসান মঞ্জিলের মূল ফটক, বাগান ও জাদুঘর এলাকাজুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের ছবি তোলা এবং পরিবারের একসঙ্গে সময় কাটানোর দৃশ্যে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ১৮৫৯ সালে নবাব আবদুল গনির উদ্যোগে নির্মিত আহসান মঞ্জিল একসময় ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের আবাসস্থল। পরে এটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে নবাব পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, ঐতিহাসিক দলিল, দুর্লভ আলোকচিত্র ও বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই স্থাপনাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা।
পরিবারের সঙ্গে ইতিহাস চর্চা
ঘুরতে আসা অনেক অভিভাবক জানান, শুধু বিনোদনের জন্য নয়, নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই তারা সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছেন। তাদের মতে, ব্যস্ত নগরজীবনে এমন ঐতিহাসিক স্থানে পরিবার নিয়ে সময় কাটানো ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাজিদ ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আহসান মঞ্জিল ঘুরতে এসে বলেন, “১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকায় থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু আমার ছেলেকে পুরান ঢাকা দেখানো হয়নি। তাই প্রথমে লালবাগ কেল্লা, পরে আহসান মঞ্জিলে নিয়ে এসেছি। আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে বাঙালি মুসলমানদের জানা উচিত। এখান থেকেই দেশের রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও রয়েছে। সেসব বিষয় সন্তানকে জানাতেই এখানে আসা।”
দর্শনার্থী রোকসানা আক্তার বলেন, “অনেক আগে এসেছিলাম, কিন্তু সম্প্রতি আসা হয়নি। আমি উত্তরায় থাকি। যানজটের কারণে সময় করে আসা হয় না। ঈদের ছুটিতে রাস্তা ফাঁকা থাকায় ছেলেমেয়ে ও বোনকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বাচ্চারাও খুব খুশি হয়েছে।”
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদার
দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ঈদের ছুটিতে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল।



