পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বিকেল থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন অনেক যাত্রী।
যাত্রীদের স্বস্তি
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকাল থেকে সদরঘাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন রুটের লঞ্চে যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ধীরে ধীরে উঠছেন। সকাল থেকে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রী চলাচল কিছুটা কম থাকলেও বিকালের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় টার্মিনালে যাত্রী সমাগম বাড়তে থাকে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত ভিড় না থাকায় স্বস্তিতে যাত্রা করতে পারছেন তারা। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, নির্বিঘ্নে বাড়িতে পৌঁছাতে পারবেন।
মোহাম্মদপুর থেকে ভোলার চরফ্যাশনে যাচ্ছিলেন মো. সুমন মিয়া। তিনি বলেন, “দুই দিন আগেই ছুটি পেয়েছিলাম। বন্ধুর সঙ্গে একসাথে বাড়ি যাবো বলে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সে আগে চলে গেছে। পরে ফোন দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এখন আমি একাই যাচ্ছি। আগের মতো ভিড় নেই, ভালোভাবেই যেতে পারবো বলে আশা করছি।”
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর উদ্দেশে মেয়েকে নিয়ে সদরঘাটে অপেক্ষা করছিলেন রোকসানা আক্তার। তিনি বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি থাকায় একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন আবহাওয়া ভালো। ভিড়ও কম, আশা করছি লঞ্চে ভালো সিট পাবো। কয়েক বছর ধরে ঈদে বাড়ি যাই, এবার পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।”
কেরানীগঞ্জ থেকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী রুবেল হাওলাদার। তিনি বলেন, “আগে সদরঘাটে এলেই ধাক্কাধাক্কি আর বিশৃঙ্খলা দেখা যেত। এবার তুলনামূলক শৃঙ্খলা আছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদে যেতে পারলেই স্বস্তি।”
একইভাবে মাদারীপুরগামী যাত্রী শারমিন বেগম বলেন, “শিশু সন্তান নিয়ে ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত খুব কষ্টকর। আজকে ভিড় কম থাকায় অনেকটা স্বস্তি লাগছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর দেখা যাচ্ছে।”
বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, “সকালে যাত্রীর সমাগম বেশি ছিল। পরে আবহাওয়ার কারণে কিছুটা কমে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার যাত্রী বাড়তে শুরু করে।”
তিনি জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ থাকবে। গত ঈদের তুলনায় এবার যাত্রীর চাপ কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোবারক হোসেন আরও বলেন, “স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৭০ থেকে ৮০টি লঞ্চ বেশি চলাচল করবে। ৩৫টি রুটে ঈদ উপলক্ষে লঞ্চ চলবে। প্রায় ১২০ থেকে ১৩০টি লঞ্চ ঢাকা ছেড়ে চাঁদপুর, শরিয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে।”
অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী বহন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রতিটি লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট টানানো রয়েছে। যেসব লঞ্চে চার্ট ছিল না তাদের জরিমানা করা হয়েছে। আজ ১০ থেকে ১৫টি লঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, কোনও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। “যাত্রী পূর্ণ হলেই সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করছে। প্রতিটি লঞ্চে তদারকি করা হচ্ছে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে পারে,” যোগ করেন তিনি।



