পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ কারখানায় ছুটি দেওয়ার পর খুব খুশি হইছিলাম বাড়ি যাব তাই। রোডে জ্যাম, কাদা। তাই অটোতে (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) কইরা মহল্লার ভেতর দিয়া ঘুইরা ঘুইরা অনেক কষ্ট কইরা আসছি। টিকিটও কাটতে পারি নাই। বাসস্ট্যান্ডে আসছি ভিজা গেছি। জ্বর জ্বর ভাব লাগতেছে। হাজার কষ্ট হইলেও বাড়িতে যাওয়ার আনন্দই আলাদা।’ তিনি আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে থাকেন এবং ঠাকুরগাঁও নিজ বাড়িতে যাচ্ছেন।
১১ দিনের ছুটিতে পরিবারের সাথে মিলন
শহিদুল বলেন, ‘১১ দিনের ছুটি পাইছি। কষ্ট হলেও মনে আনন্দ আছে যে বাড়িতে যাচ্ছি। মা–বাবার সাথে দেখা হবে, ভাইবোনের সাথে দেখা হবে। এই একটা খুশি, আনন্দ।’ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গতকাল সোমবার থেকে ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হয়েছে। কারখানা ছুটি হওয়ার পর থেকে শ্রমিকসহ অন্যরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে ছুটছেন। এতে সাভার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোয় ঘরমুখী মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে।
বৃষ্টি ও যানজটে ভোগান্তি
আজ সকালে ঝোড়ো বৃষ্টি ও পরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। নবীনগর, পলাশবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের ওপরে আগে থেকে শ্রমিকদের ভাড়া করা বাস এলোমেলোভাবে দাঁড় করিয়ে রাখায় নবীনগর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত পরিবহনগুলো থেমে থেমে চলছে। পোশাকশ্রমিক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কুড়িগ্রাম যাব। বৃষ্টির কারণে যে পরিস্থিতি, রাস্তাঘাট তো খুবই খারাপ, বেহাল অবস্থা। পাশাপাশি যানজট। অনেক বাস রাস্তায়, কিন্তু যাত্রীরা বৃষ্টির কারণে বাস খুঁজতে পারতেছে না।’
আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন মেহনাজ। তিনি সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন। মেহনাজ বলেন, ‘বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট করে বাড়িতে যাচ্ছি। বাসভাড়াও দ্বিগুণ। খুব ভোগান্তি।’
পুলিশের তৎপরতা
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়িগুলো কিছুটা ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। বাইপাইল এলাকাতেও গাড়ির গতি কিছুটা কম। তবে কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মহাসড়কে তৎপর আছে।



