ঈদুল আজহায় ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি
ঈদুল আজহায় ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীকে দ্রুত কোরবানির বর্জ্যমুক্ত রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিনেই মোট বর্জ্যের অর্ধেকের বেশি অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, এবার তিন দিনে মোট ২০ হাজার ৮৮৯ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের সমপরিমাণ। এর মধ্যে ঈদের দিনই ১০ হাজার ৬১৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসি ১৬ লাখ ৩০ হাজার পরিবেশবান্ধব পলিথিন ব্যাগ বিতরণ করছে। এছাড়া পশুর রক্ত ও বর্জ্য পরিষ্কারের পর জীবাণুমুক্তকরণের জন্য ২৫ কেজি ওজনের ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার মজুত রাখা হয়েছে। বর্জ্য পরিবহনে ট্রাক, ডাম্পার, পে-লোডার ও পানির ট্যাঙ্কারসহ মোট ৭৫২টি যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ১০টি অঞ্চলে ১০টি মনিটরিং টিম গঠন এবং ঈদের তিন দিন আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অস্থায়ী পশুর হাটে একটি করে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে দুটি টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ১০ জন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা, দুটি কসাইখানা পরিদর্শক দল ও ১৮ জন সহায়ক কর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করবেন। ৫৪টি ওয়ার্ডে এক হাজার ইমাম ও কসাইকে কোরবানিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঈদুল আজহায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হয়। নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করবেন এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঈদের তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য ভাগাড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ঈদের দিনই ১৫ হাজার ৯৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অস্থায়ী পশুর হাট থেকে উৎপন্ন বর্জ্যের ৬০ শতাংশ প্রথম দিনেই সরিয়ে ফেলা হবে। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে এ বছর প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৬টি পশু কোরবানি হতে পারে।

এ বিপুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত থাকবেন। ভারী ও হালকা ডাম্প ট্রাক, কমপ্যাক্টর ও পানির ট্যাঙ্কারসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বাসিন্দাদের মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৪০ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন সরবরাহ করা হবে। নগর ভবনে লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা ও ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু থাকবে। বাসিন্দারা নিজ নিজ ওয়ার্ড কার্যালয় ও প্রাইমারি কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিসিএসপি) অপারেটরদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার সংগ্রহ করতে পারবেন।

ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, নির্ধারিত ব্যাগে কোরবানির বর্জ্য রেখে নির্দিষ্ট স্থানে রাখলে দ্রুত তা অপসারণ করা সম্ভব হবে। তিনি নগরবাসীকে ড্রেন বা নর্দমায় বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে মূল বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রথম দিনের বর্জ্য আট ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

সিটি করপোরেশন দুটির এই প্রস্তুতির ফলে রাজধানীবাসী একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।