ঈদুল আজহায় সদরঘাটে লঞ্চ ছাড়তে স্বস্তি, যানজটে ভোগান্তি
ঈদুল আজহায় সদরঘাটে লঞ্চ ছাড়তে স্বস্তি, যানজটে ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষ রাজধানীর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল থেকে স্বস্তিতে লঞ্চযোগে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। তবে টার্মিনালে পৌঁছাতে সড়কের তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তি ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন অনেক যাত্রী।

লঞ্চ চলাচলের চিত্র

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩৯টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। একই সময়ে টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে ৭৩টি লঞ্চ। সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে চাঁদপুর ও ইলিশা রুটে যাত্রীর চাপ বেশি ছিল। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে কিছু সময়ের জন্য যাত্রীর চাপ কমে যায়। পরে বৃষ্টি থেমে গেলে আবারও যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরগুনা, চরফ্যাশন, বেতুয়া, হাকিমউদ্দিন, মনপুরা ও ভোলা রুটের যাত্রীদের লঞ্চে উঠে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা

বেতুয়াগামী এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের যাত্রী রহিম শেখ বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর-১১ থেকে পরিবার নিয়ে সদরঘাটে এসেছি। আজ ছুটির দিন হলেও রায়সাহেব বাজার এলাকায় যানজটে আটকে ছিলাম। যদিও লঞ্চ ছাড়বে সন্ধ্যা ৭টায়, তারপরও আগেভাগে চলে এসেছি। কারণ, এখন কোনো নির্দিষ্ট টাইম টেবিল নেই, যাত্রী হলেই লঞ্চ ছেড়ে দিচ্ছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাতিয়াগামী এমবি টিপু লঞ্চের যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খিলক্ষেত থেকে রওনা দিয়েছিলাম। পথে গুলিস্তান ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় প্রচুর যানজট ছিল। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্ট করে সদরঘাটে পৌঁছেছি। তবে টার্মিনালে এসে আগের মতো বিশৃঙ্খলা দেখিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় কিছুটা ভালো লাগছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান সদরঘাট টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে প্রথম আলোকে বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক ও টার্মিনাল এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। সড়কে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আগামী ৪ জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

লালমোহনগামী এমভি আল আরাফ-৭ লঞ্চের যাত্রী বিলকিস বেগম পরিবার নিয়ে সকালেই সদরঘাটে চলে এসেছেন। দুপুরের দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের সময় ভিড় ও ঝামেলার কথা চিন্তা করে আগেভাগে রওনা দিয়েছিলাম। পথে যানজটে ভুগতে হলেও টার্মিনালে এসে একটু শান্তি পেয়েছি। আগে যেমন ধাক্কাধাক্কি ছিল, এবার সেটা কম। তবে মহিলা ও বাচ্চা যাত্রীদের জন্য আরও আলাদা সুবিধা থাকলে ভালো হতো।’

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ লঞ্চের কেবিন ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আর মাত্র দুই দিন পর ঈদ। আগে এই সময় লঞ্চে যাত্রী ভরা থাকত। কিন্তু সকাল থেকে তেমন যাত্রী নেই। লঞ্চ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ছাড়বে। এখনো ডেকে জায়গা খালি আছে ও সাতটি কেবিনও খালি রয়েছে। বেলা তিনটার পর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে।’

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার ঢাকা নদীবন্দরের সদস্য ও এমভি জমজম লঞ্চের মালিক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘আজ ইলিশা, চাঁদপুর ও ভোলা রুটে আমাদের তিনটি লঞ্চের ট্রিপ রয়েছে। দুপুর একটার দিকে ইলিশা রুটের একটি লঞ্চ বন্দর ছেড়ে গেছে। তবে এখনো যাত্রী চাপ খুব বেশি নয়। আগামীকাল থেকে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে।’

বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, যাত্রী হয়রানি রোধে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সতর্কসংকেত মেনে লঞ্চ চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেওয়া হবে না।