মাঝরাতে পায়ে টান ধরলে কী করবেন? জানুন কারণ ও প্রতিকার
মাঝরাতে পায়ে টান ধরলে করণীয়

হঠাৎ মাঝরাতে পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন পা সোজা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণভাবে অনেকে মনে করেন, শুধু পানি কম খাওয়ার কারণেই এই সমস্যা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিহাইড্রেশন ছাড়াও আরও নানা কারণে পেশিতে টান ধরতে পারে। কেন এমন হয় এবং টান ধরলে কী করা উচিত—তা নিয়েই বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে।

যেসব কারণে পেশিতে টান ধরে

মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশিতে আঘাত লাগলে অনেক সময় টান ধরতে পারে। তবে চোট বা আঘাত ছাড়াও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার সময় পায়ের পেশিতে টান ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হলো শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শরীরে তরল ও প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি তৈরি হলেও পেশিতে টান ধরে। শরীরে তরলের মাত্রা কমে গেলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণ ব্যাহত হয়। এ ছাড়া ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ঘাটতিও এই সমস্যার বড় কারণ হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়

যারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করেন, তাদের মধ্যে পেশিতে টান ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া শরীরে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীদের মধ্যেও পায়ের পেশিতে টান ধরার সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

রাতে বেশি পায়ে টান ধরার কারণ কী?

বিশ্রামের সময় শরীরের নিচের অংশে রক্ত চলাচল তুলনামূলক কমে যায়। তখন ওই অংশের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও খনিজ পৌঁছাতে পারে না। ফলেই মাঝরাতে বা ঘুম ভাঙার সময় হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান ধরে। ডিহাইড্রেশনও এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেশিতে টান ধরলে কী করবেন?

সাময়িক আরাম পেতে আক্রান্ত স্থানে হালকা মালিশ করতে পারেন। পাশাপাশি আইস প্যাক বা বরফ সেঁক দিলে পেশি দ্রুত শিথিল হয় এবং ব্যথাও কিছুটা কমে। যাদের নিয়মিত এ ধরনের সমস্যা হয়, তাদের শরীরে ভিটামিন ও খনিজের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশিতে টান ধরার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও উপকারী হতে পারে।