কোঁকড়ানো চুলের যত্নে ডিফিউজিং পদ্ধতি ও টিপস
কোঁকড়ানো চুলের যত্নে ডিফিউজিং ও করণীয়

কোঁকড়ানো চুল দেখতে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় হলেও এর যত্নে প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ। সাধারণত সোজা চুলের তুলনায় কোঁকড়ানো চুল বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ হয়, তাই আর্দ্রতা ধরে রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। যাদের কোঁকড়ানো চুল আছে, তারাই জানেন এই চুল সামলানো কতটা কঠিন। অনেক সময় মনে হয়, নিজের চুলের সঙ্গেই যেন এক টক্সিক সম্পর্ক চলছে— কেটে ফেলতেও মন চায় না, আবার সামলানোও ভীষণ ঝামেলার। কিন্তু চাইলেই তো আর চুল কেটে ফেলা যায় না। কোঁকড়ানো চুলকে ভালোবেসে যত্ন নেওয়াটাই একমাত্র বড় উপায়। আর সেই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হেয়ার ডিফিউজিং।

হেয়ার ডিফিউজিং কী?

হেয়ার ডিফিউজিং শুধু চুল শুকোনোর পদ্ধতি নয়, এটি আপনার চুলের স্বাভাবিক কার্ল বা ওয়েভকে আরও সুন্দর করে তোলে। এর সাহায্যে চুলে ভলিউম আসে, কার্লের ডেফিনেশন বাড়ে এবং অতিরিক্ত তাপের ক্ষতিও কম হয়। সাধারণত ব্লো-ড্রাইয়ের তুলনায় ডিফিউজার অনেক বেশি কার্যকর বলে মনে করেন অনেকেই। কারণ এটি চুলে সমানভাবে তাপ ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফ্রিজ কম হয় এবং কার্লগুলো অনেক বেশি গোছানো ও সুন্দর দেখায়।

ডিফিউজারের প্রকারভেদ ও প্রযুক্তি

বিভিন্ন ধরনের চুলের টেক্সচারের জন্য আলাদা আলাদা ডিফিউজার পাওয়া যায়। অনেক ডিফিউজারে আবার আয়োনাইজেশন প্রযুক্তিও থাকে, যা চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ফ্রিজি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এতে চুলের স্বাভাবিক কার্ল প্যাটার্ন কখনো নষ্ট হয় না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিফিউজিং করার আগে করণীয়

ডিফিউজিং করার আগে অবশ্যই হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করুন। এতে তাপের ক্ষতি অনেকটাই কম হবে। আর মাথা নিচু করে চুল সামনে ঝুলিয়ে নিয়ে নিচের দিক থেকে উপরের দিকে ডিফিউজ করুন। এতে চুলে ভলিউম বাড়বে। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে ঠান্ডা হাওয়া ব্যবহার করুন, যা কার্ল সেট হতে সাহায্য করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সঠিক তাপ ও গতি সেটিং

কোঁকড়ানো চুল শুকোনোর জন্য হাই হিটের সঙ্গে লো স্পিড সেটিং ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। এতে চুল ধীরে ধীরে শুকায় এবং কার্লের আকৃতি সুন্দর থাকে। তবে ডিফিউজার সরাসরি কার্লের ওপর ধরে ব্যবহার করবেন না, এতে কার্ল ভেঙে যেতে পারে এবং ফ্রিজি ভাব বাড়তে পারে। আর একেবারে ভেজা চুলে শুধু গরম হাওয়া ব্যবহার করবেন না। একই সঙ্গে হাই হিট ও হাই স্পিড সেটিং ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন, এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

চুল ধোয়া ও প্রস্তুতি

প্রথমে সালফেটমুক্ত ক্লিনজার বা কো-ওয়াশ ব্যবহার করে স্ক্যাল্প ও চুল পরিষ্কার করুন। অতিরিক্ত কড়া শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। চুল ধোয়ার সময় মূলত স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন, যাতে ময়লা ও বিল্ডআপ পরিষ্কার হয়। এরপর পানি নিজে থেকেই বাকি চুল পরিষ্কার করে দেবে।

প্রোডাক্ট ব্যবহারের কৌশল

ভেজা থাকতেই কার্ল ক্রিম, জেল বা লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। প্রেয়ারিং হ্যান্ডস পদ্ধতি বা স্ক্রাঞ্চিং মোশন ব্যবহার করে কার্লগুলোকে আকার দিন। প্রয়োজন হলে চুল ভাগ ভাগ করে প্রোডাক্ট লাগান, এতে সব জায়গায় সমানভাবে প্রোডাক্ট পৌঁছবে।

চুল শুকানোর সঠিক পদ্ধতি

সবচেয়ে ভালো হবে যত্ন নিয়ে চুল শুকানো। অতিরিক্ত পানি শুষে নিতে মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা কটন টি-শার্ট ব্যবহার করুন। জোরে ঘষবেন না, বরং স্ক্রাঞ্চ করে পানি বের করুন। এরপর চুল স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দিন অথবা ডিফিউজার ব্যবহার করুন। ডিফিউজার ব্যবহার করলে লো হিট ও লো স্পিড সেটিং রাখাই সবচেয়ে ভালো, এতে কার্লের ডেফিনেশন ও ভলিউম বজায় থাকে।

ঘুম ও সকালের যত্ন

রাতে ঘুমানোর সময় সাটিন পিলোকভার ব্যবহার করুন বা সাটিন বোনেট পরে ঘুমান, এতে কার্ল কম জট পাকাবে। সকালে চুল রিফ্রেশ করতে পানি ও সামান্য লিভ-ইন কন্ডিশনার মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। এতে কার্ল আবার নতুনের মতো ফ্রেশ দেখাবে।

অতিরিক্ত টিপস

  • চুল পুরো শুকিয়ে গেলে যদি জেল ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আলতো করে স্ক্রাঞ্চ করে শক্ত ভাব দূর করুন। এতে কার্ল নরম ও বাউন্সি দেখাবে।
  • সপ্তাহে একবার গভীর কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট দিন।
  • নিয়মিত ট্রিম করিয়ে স্প্লিট এন্ড দূর করুন।