প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ: ১০ ঘণ্টা ভূতের গল্প চালিয়ে চীনে উদ্ভট ঘটনা
প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ: ১০ ঘণ্টা ভূতের গল্প চালানো

প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ: ১০ ঘণ্টা ভূতের গল্প চালিয়ে চীনে উদ্ভট ঘটনা

প্রতিবেশীর ওপর প্রতিশোধ নিতে এক ব্যক্তি উদ্ভট এক পন্থা বেছে নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত লাউডস্পিকারে ভূতের অডিও গল্প চালিয়ে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ধরে শব্দ সৃষ্টি করেছেন। চীনের গুয়াংঝু শহরে ঘটেছে এমনই এক অদ্ভুত ঘটনা, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়েছে।

দ্বন্দ্বের পটভূমি ও প্রতিশোধের কৌশল

লু নামের এক ব্যক্তি এবং তাঁর রুমমেট লি প্রতিবেশী শি-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান। দ্বন্দ্বের সঠিক কারণ জানা না গেলেও, লু ও লি প্রতিশোধ নিতে এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তাঁরা দেয়ালের পাশে একটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতিদিন ভৌতিক গল্প চালানো শুরু করেন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই শব্দ চলতে থাকে। সারাক্ষণ ভুতুড়ে শব্দে পুরো এলাকা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, যা প্রতিবেশীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিবেশীদের উপর প্রভাব ও আইনি জটিলতা

লু ও লি-এর এমন আচরণে শুধু প্রতিবেশী শি নয়, দুই তলা উপরে থাকা চুই-এর পরিবারও মারাত্মকভাবে বিরক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে চুই-এর সন্তান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছিল না। তবে, শব্দের মাত্রা আইনি সীমার নিচে থাকায় সরাসরি কিছু করা যাচ্ছিল না। বিধি অনুযায়ী, দিনে শব্দসীমা ৬০ এবং রাতে ৫০ ডেসিবেলের নিচে থাকতে হবে। স্পিকারে চালানো ভৌতিক গল্পের শব্দ মাত্রা ছিল মাত্র ৩৬ ডেসিবেল, যা আইনি সীমার ভিতরে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের হস্তক্ষেপ ও সমাধান

চুই বিশ্বাস করতেন, লু ইচ্ছা করে এমন শব্দ তৈরি করছেন যা তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে। এজন্য তিনি গুয়াংঝুর হাইজু ডিস্ট্রিক্ট পিপল’স আদালতে প্রি-লিটিগেশন ইঞ্জাংশনের জন্য আবেদন করেন। প্রি-লিটিগেশন ইঞ্জাংশন হলো, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় আসার আগে আদালতের এমন একটি আদেশ, যা কোনো পক্ষকে ক্ষতি বা বিঘ্ন ঘটাতে বাধা দেয়। পরে আদালতের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে লু সব অডিও সরঞ্জাম খুলে ফেলেন এবং ভবিষ্যতে কোনো শব্দজনিত সমস্যা তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনলাইন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি অনলাইনেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, 'আমার খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, কী ধরনের ঝগড়া হলো যে কেউ একজন ১০ ঘণ্টার ভূতের গল্প চালাতে বাধ্য হলো?' কেউ আবার মন্তব্য করেন, 'এই লোকটা সত্যিই সাহসী। তাঁর কি নিজের ভয় নেই? নিজে এবং প্রতিবেশী কাউকেই ছাড় দেননি তিনি।' এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে মানুষ প্রতিবেশী সম্পর্ক ও শব্দ দূষণের বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

এই ঘটনা থেকে দেখা যায়, প্রতিবেশী দ্বন্দ্ব কতটা জটিল হতে পারে এবং আইনি ব্যবস্থা কীভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধান আনতে পারে। চীনের আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপ এই ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা অন্যান্য অনুরূপ বিবাদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।