বন্ধুর বিয়েতে নিমন্ত্রণ না পাওয়ার গল্প: সাবরিনার মনের দ্বন্দ্ব
অফিস থেকে ফিরে সাবরিনা নেটফ্লিক্সে সিনেমা খুঁজছিল, যখন ফোন বেজে উঠল। ওপাশ থেকে নাদিয়ার কণ্ঠ, ‘তোর পার্পল কালারের মাইসোর সিল্কটা ধার দিবি?’ কথোপকথনে জানা গেল, প্রীতি ও রায়হানের বিয়ের রিসেপশনে যাওয়ার জন্য নাদিয়ার পার্পল রঙের শাড়ি দরকার। সাবরিনা অবাক হয়ে শুনল, রায়হান বিয়ে করেছে, কিন্তু তাকে এই খবর জানায়নি।
সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকা
সাবরিনা বহুদিন ধরে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে না। অনলাইনে যোগাযোগ তার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। সে বলে, ‘আমি তো ফেসবুক–ইনস্টা সব ডিঅ্যাকটিভেট করে রাখছি, তাই দেখি নাই।’ নাদিয়া জানায়, প্রীতি ফেসবুকে ছবি দিয়েছে, কিন্তু সাবরিনা সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলে বলে খবরটি তার অজানা রয়ে গেছে।
অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের দূরত্ব
সাবরিনা ও রায়হান একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মাস্টার্সের সময় ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ততা শুরু হলে তাদের সার্কেল ভেঙে যায়। রায়হান প্রীতির জন্য মুষড়ে পড়েছিল, আর সাবরিনা তাকে পড়াশোনায় সহায়তা করত। এখন প্রীতি দেশে ফিরেছে, রায়হান বিয়ে করেছে, কিন্তু সাবরিনার সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেছে। নাদিয়া জিজ্ঞেস করে, ‘কিন্তু তুই রায়হানের ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলি।’ সাবরিনা উত্তর দেয়, ‘হুম...সে তো ছিলামই ক্যাম্পাসে থাকতে। এখন তো আর অতটা ইয়ে নাই, কী বলে, কানেকশন আরকি…অনেক কমে গেছে।’
নাদিয়ার সরলতা ও সাবরিনার বিরক্তি
নাদিয়া বারবার জোর দেয় রায়হানকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতে, কেন তাকে বিয়ের খবর জানানো হয়নি। সাবরিনা বিরক্ত হয়ে বলে, ‘আরে ধুর, কেউ দাওয়াত না দিলে কি চেয়ে নেওয়া যায় নাকি? কেমন দেখায় সেটা?’ নাদিয়ার সরলতা কখনো কখনো বোকামিতে পরিণত হয়, যা সাবরিনার কাছে অসহনীয় লাগে। সে মনে মনে ভাবে, ‘বোকা বন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমান শত্রু থাকা ভালো।’
শাড়ি ধার দেওয়া ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত
সাবরিনা নাদিয়াকে তার পার্পল শাড়ি ধার দেয়, যদিও তার নিজের আলমারিতে অনেক শাড়ি আছে। সে ভাবে, ‘খুশির দিনে রায়হান নিজের দুঃসময়ের বন্ধুর কথা ভুলে গেছে, সেই ক্ষোভ এই মেয়ের ওপর ঝাড়ার তো কিছু নেই।’ নাদিয়া শাড়ি নিতে তার বাসায় আসে, এবং আবারও রায়হানকে ফোন করার জন্য চাপ দেয়। সাবরিনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু নাদিয়ার জিদের সামনে শেষ পর্যন্ত সে রায়হানকে একটি সংক্ষিপ্ত টেক্সট পাঠায়, ‘শাদি মোবারক হো।’
অতীতের স্মৃতিতে ডুবে যাওয়া
টেক্সট পাঠানোর পর সাবরিনা ফোন অফ করে ইউটিউবে একটি পুরনো গান শোনে। মাস্টার্স পরীক্ষার সময় রায়হানের হলের সামনে অপেক্ষা করতে গিয়ে সে এই গানটি শুনত। রায়হান তখন প্রীতির কথা বলত, আর সাবরিনা নিজেকে প্রবোধ দিত। সে ভাবে, ‘ফ্রেন্ডজোনড হয়ে অনেকগুলো মাস পাশে থেকে সাপোর্ট তো সে দিয়েইছে। যখন রায়হান তার প্রিয় নারীকে ফিরে পাচ্ছে, তখন তার সরে আসাই বিধেয় ছিল।’ গানের কথাগুলো তার মনে পড়ে, ‘মেরে হামনাফাস, মেরে হামনাওয়া, মুঝে দোস্ত বনকে দাগা না দে...’
সাবরিনা বুঝতে পারে, জীবন পরিবর্তনশীল, এবং সম্পর্কের গতিপথও বদলে যায়। রায়হানের বিয়েতে নিমন্ত্রণ না পাওয়া তার জন্য একটি ক্ষণস্থায়ী দুঃখ, কিন্তু সে নিজেকে সান্ত্বনা দেয় যে, সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিল। এখন তার নিজের পথেই এগিয়ে যাওয়ার সময়।



