বন্ধুর বাসায় ফিরে ফিরে যাওয়া: প্রেমের জটিলতায় এক তরুণের অভিজ্ঞতা
বন্ধুর বাসায় ফিরে ফিরে যাওয়া: প্রেমের জটিলতা

বন্ধুর বাসায় ফিরে ফিরে যাওয়া: প্রেমের জটিলতায় এক তরুণের অভিজ্ঞতা

শুক্রবারের ছুটির দিনটি রাকিবের জন্য ছিল একটি নিয়মিত রীতি। তিনি হল থেকে বেরিয়ে যেতেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রায়হানের বাসায়। সেখানে দুবন্ধুর আড্ডা, চা-নাশতা খাওয়া, নেটফ্লিক্স বা চরকিতে নতুন কোনো সিনেমা দেখা এবং রাতে হলে ফিরে যাওয়া ছিল দস্তুর। ভালো কিছু রান্না হলে খালাম্মা রাতে ভাত না খাইয়েও ছাড়তেন না। কিন্তু এই রীতি এখন ভেঙে গেছে। তৃতীয় সপ্তাহ ধরে রাকিব বন্ধুর দরজায় এসে ফিরে যাচ্ছেন, কারণ রায়হান বাসায় থাকে না।

অপমান ও ক্ষোভের উদ্রেক

গত দুই শুক্রবার রাকিবের মন খারাপের মতো হয়েছিল, কিন্তু আজকের দিনটি ছিল ভিন্ন। নীপা, রায়হানের ছোট বোন, তাকে বলল, "বেকার এতটা পথ এসে ফিরে যেতে হয়।" এই শব্দটি রাকিবের মনে জ্বালা ধরিয়ে দিল। তিনি বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের ছাত্র, সপ্তাহে চারটি টিউশনি করে আয়-উপার্জন করেন, এবং ভবিষ্যতে চাকরি বা বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরির সম্ভাবনা আছে। তবুও নীপার কথায় অপমানবোধ জাগল।

রাকিব ক্ষোভে বললেন, "রায়হানও তো একটা ফোন করে বলতে পারত সে বাসায় থাকবে না... দুসপ্তাহ এসে ফিরে গেলাম, ওকে বলোনি?" নীপা উত্তর দিল, "বলেছি।" কিন্তু রাকিবের গলায় ঝাঁজ নিয়ে বললেন, "তবু একটা ফোন করার কথা তার মাথায় এল না!"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেমের জটিলতা নিয়ে আলোচনা

হঠাৎ নীপা প্রশ্ন করল, "আপনি প্রেমে পড়েছেন কখনো?" রাকিব ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন। তিনি আগে নীপার সঙ্গে খুব একটা কথাবার্তা বলেননি, কিন্তু আজ সে অসংকোচে এমন একটি প্রশ্ন করল। নীপা ব্যাখ্যা করল, "প্রেমে পড়লে বুঝতে পারতেন, তখন মাথা ঠিকমতো কাজ করে না। বন্ধু বাসায় এসে ফিরে গেল কি না, সে কথা মনে রাখার সময়ও থাকে না তখন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাকিব নিজের প্রেমের অভিজ্ঞতা ভাবলেন। একবার চালু টাইপের এক ছাত্রীর পাল্লায় পড়েছিলেন, কিন্তু বন্ধু রায়হানের সতর্কবার্তা শুনে টিউশনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। অদিতি নামে এক মেয়েকে ভালো লেগেছিল, কিন্তু যখন দেখলেন সে অন্য একজন যুবকের সঙ্গে ডেট করে, তখন মন ভেঙে গিয়েছিল।

নীপার সঙ্গে কথোপকথনের মোড়

রাকিব বললেন, "আচ্ছা আসি, রায়হানকে বোলো, আর আসব না।" কিন্তু নীপা তাকে চা খেতে অনুরোধ করল, এবং খালাম্মার নির্দেশে তিনি ঘরে ঢুকে বসলেন। চা-নাশতা নিয়ে নীপা ঘরে ঢুকল এবং চলে গেল না। রাকিব বললেন, "তোমার মতো একটা ছোট বোন থাকলে বড় ভালো হতো নীপা।" নীপা জিজ্ঞেস করল, "কেন, বলেন তো?"

রাকিব হেসে বললেন, "ওই যে রায়হানের মতো বোনের বান্ধবীর সঙ্গে একটা সম্পর্ক...মানে প্রেম করতে পারতাম।" নীপা তর্ক করল, "বোনের বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম করা যায়, বন্ধুর বোনের সঙ্গে বুঝি হয় না?" রাকিব উত্তর দিলেন, "এটা একটু আনএথিক্যাল মনে হয়। বন্ধুর কাছে এসে তার বোনের দিকে নজর দেওয়া একধরনের বিট্রেয়াল হয়ে গেল না?"

নীপা জবাব দিল, "এসব নীতিমালা কোন বইয়ে আছে?" রাকিব চোখ তুলে তাকাতেই দেখলেন, নীপার কাজলটানা চোখে জল টলটল করছে। তিনি নিজেকে নির্বোধ মনে করলেন, এবং রবীন্দ্রনাথের গানের কথা স্মরণ করলেন: "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।"

এই গল্পটি তরুণ জীবনের প্রেম, বন্ধুত্ব, অপমান এবং সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে একটি গভীর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যা পাঠকদের ভাবনার খোরাক জোগায়।