টিয়াপাখি বেবে: সাবমেরিনে আটলান্টিকের তলদেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস সৃষ্টি
আকাশে পাখির উড়ান একটি স্বাভাবিক দৃশ্য, কিন্তু পানির নিচে সাবমেরিন চালিয়ে একটি টিয়াপাখির ভ্রমণ? সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ঠিক এমনই অদ্ভুত ও চমকপ্রদ একটি ঘটনা দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেবে নামের একটি সাদা টিয়াপাখি স্বচ্ছ একটি ছোট সাবমেরিনের ভেতরে বসে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশ ঘুরে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভবত এটিই বিশ্বের প্রথম ঘটনা, যেখানে এই প্রজাতির একটি পাখি সমুদ্রের গভীরে সময় কাটিয়েছে এবং সাবমেরিনে চড়ে সমুদ্রতল ভ্রমণ করেছে।
স্টিভেন লয়ারের অ্যাডভেঞ্চার সঙ্গী বেবে
বেবে শুধু সমুদ্রতল ভ্রমণই নয়, তার মালিক স্টিভেন লয়ারের সব ধরনের দুঃসাহসিক অভিযানের সঙ্গী। ৬ বছর বয়সী এই টিয়াপাখি ইতিমধ্যেই স্টিভেনের সঙ্গে স্কাইডাইভিং, ৫০০ মাইল দীর্ঘ সাইকেল চালানো, বরফে স্কিইংসহ নানা অভিযানে অংশ নিয়েছে। এবারের সমুদ্রতল ভ্রমণের জন্য স্টিভেন একটি প্লাস্টিকের পাত্র ও পেইন্টবল খেলার এয়ার ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে একটি ছোট ও স্বচ্ছ সাবমেরিন তৈরি করেন, যার নাম দিয়েছেন ‘বেবোস্ফিয়ার’।
ভাইরাল ভিডিও ও সমালোচনা
পানির নিচে বেবের এই অভিযানের ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ৪৩ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং এটি আমেরিকার জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’-এও প্রদর্শিত হয়েছে। তবে অনেকে টিয়াপাখিকে পানির নিচে পাঠানোর জন্য স্টিভেন লয়ারের সমালোচনা করেছেন, এমনকি কেউ কেউ এটিকে পশু নির্যাতন বলে অভিহিত করেছেন। ৬০ বছর বয়সী আইনজীবী স্টিভেন দাবি করেন, বেবে নিজেই এই অভিযানে যেতে চেয়েছিল এবং পানির নিচে থাকার সময় কোনো ভয় বা পালানোর লক্ষণ দেখায়নি।
বেবে ও স্টিভেনের বিশেষ বন্ধন
২০২০ সালে ফ্লোরিডার একটি দোকানে স্টিভেনের সঙ্গে বেবের প্রথম দেখা হয়। চঞ্চল স্বভাবের পাখিটি স্টিভেনের আঙুলে এসে বসে এবং তার ছেলের টুপি কামড়াচ্ছিল, যা দেখে স্টিভেন তাকে কিনে নেন। বেবে সব সময় স্টিভেনের সঙ্গে থাকে, এমনকি ফোনে কথা বলার সময়ও সে স্ক্রিনে পা দিয়ে কল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। স্টিভেন যখন সাইক্লিং ক্লাস করান, তখন বেবে তার কাঁধে বসে থাকে এবং ক্লান্ত হলে তার জামার ভেতর ঘুমায়।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
স্টিভেন এখন বেবেকে নিয়ে পাওয়ার প্যারাগ্লাইডিং বা পিঠে মোটর বেঁধে আকাশে ওড়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী এই বড় অভিযানে যাওয়ার আগে তিনি নিশ্চিত হবেন যে বেবে সত্যিই সেখানে যেতে চায় কি না। আপাতত বেবে পরবর্তী অভিযানের জন্য বিশ্রাম নিচ্ছে, আর স্টিভেন লয়ার বিশ্বাস করেন যে বেবের সাহস ও ব্যক্তিত্ব অনেক মানুষের চেয়েও বড়, যা হাজার হাজার মানুষের মন জয় করেছে।



