দোহারে অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, শিশুকন্যার আহাজারি
দোহারে অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, শিশুকন্যার আহাজারি

ঢাকার দোহারের বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম দম্পতি। তাদের শিশুকন্যা জান্নাত বাবা-মাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বলে, 'মা, তুমি কেন এতিম করে চলে গেলা, বাবাকেও নিয়ে গেলা।'

ঘটনার বিবরণ

শুক্রবার রাতে আগুন লেগে সালাম-নাসিমা দম্পতির পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কোনোমতে তাদের দুই মেয়ে খাদিজা ও জান্নাত এবং নাতি নিশাতকে বাঁচানো সম্ভব হলেও আগুনে পুড়ে মারা যান ওই দম্পতি। শনিবার দুপুরে দেখা যায়, আগুনে পোড়া ঘরের খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে এবং কোনো আসবাবপত্র নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন ও আশপাশের গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

পরিবারের সদস্যদের অবস্থা

সালামের চাচা আয়নাল শিকদারের বাড়ির উঠানে ওই দম্পতির চার মেয়ে কাঁদছিলেন। স্বজনেরা তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সিদ্দিক জানান, সালামের চার মেয়ে সাবিনা আক্তার, সোহেলী আক্তার, খাদিজা আক্তার ও জান্নাত। সাবিনা ও সোহেলী বিবাহিত। খাদিজা ষষ্ঠ ও জান্নাত সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তারা মা-বাবার সঙ্গেই ছিল। বাবার আয়েই সংসার চলত। সালাম চায়না জালের কারখানায় কাজ করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেশীদের বক্তব্য

প্রতিবেশী হাসিনা বেগম বলেন, আগুন লাগার পর নাসিমা বেগম দুই সন্তান ও নাতিকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি একে একে তাদের জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের আর বাঁচাতে পারেননি স্বামী-স্ত্রী। ঘরের আসবাব সামলাতে গিয়ে তারা দেরি করে ফেলেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় দোহার থানা ও ফায়ার সার্ভিসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাশ উদ্ধার

লাশ উদ্ধারকারী স্থানীয় জামাল ফকির বলেন, আগুনে পুরো টিন ও কাঠের ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। মৃতদেহ দুটির কোনো চেহারা বোঝা যায় না। লাশ উদ্ধারের সময় নাসিমা বেগমের গায়ে থাকা কিছু গয়না পেয়ে তিনি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তদন্ত ও সহায়তা

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় শোক জানিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। ঢাকায় জরুরি মিটিং থাকায় আসতে পারেননি। স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য বলেছেন। তিনি শিগগিরই ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন।