পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই অপসারণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা
মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে এ কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
বর্জ্য পরিবহনের সময়সূচি
ডিএসসিসি জানায়, ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কলাবাগান এসটিএস (এসটিএস) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহন শুরু হবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রথম দিনের বর্জ্য পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ সম্পন্ন করা।
বর্জ্যের পরিমাণ ও জনবল
এ বছর তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল এবং ২ হাজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরনের যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাক, কম্প্যাক্টর ও পে-লোডার।
সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ
সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও তদারকি
ডিএসসিসি আরও জানায়, কোরবানির হাটের কার্যক্রম ও বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি পশুর হাটে আলাদা তদারকি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব পালন করবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি বলেছে, নির্ধারিত স্থানেই কোরবানি দিতে হবে এবং পশুর বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। পাশাপাশি কোরবানি শেষে স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার বা স্যাভলন ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ড্রেন বা নর্দমায় কোনও ধরনের বর্জ্য না ফেলতেও অনুরোধ জানিয়েছে তারা।



