সিলেটের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বিদায়বেলায় হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’
প্রত্যাহার ও প্রতিক্রিয়া
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে দায়িত্ব থেকে সরানোর আদেশ জারি করে। তার এই আকস্মিক প্রত্যাহারের আদেশ কার্যকর হওয়ার পর সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।
বিদায়ি জেলা প্রশাসককে জনবান্ধব ও দুর্নীতিবিরোধী দাবি করে তাকে অন্যায়ভাবে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও ‘সিলেটের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ও ইসলামি দলগুলোর ব্যানারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আদালতপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা
সোমবার মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা মাজারের সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। এ সময় সারওয়ার আলম তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা দান করেন। যার ফলে ওয়াকফ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথভাবে পরিচালিত ওই অ্যাকাউন্টে মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হলো বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন নিশ্চিত করেছেন।
মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে টাকা গণনার সময় সোমবার দানবাক্সের ভেতর থেকে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে লেখা একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর একটি বেনামি চিঠি উদ্ধার করা হয়। যেখানে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার সাহসী পদক্ষেপের জন্য দেশ-বিদেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের ডিসির পক্ষে থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দরগাহের জনৈক কেরানির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লুটপাট, অবৈধ জায়গা দখল ও দুর্নীতির বিবরণ দিয়ে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর স্থগিত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উপস্থিতিতে দরগাহের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মঙ্গলবার বিকালের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সফর ও সব সরকারি-রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে আকস্মিক স্থগিত করা হয়েছে বলে মন্ত্রীর মিডিয়া সেল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো মাজারে জমা পড়া দানের টাকার হিসাব প্রকাশ্যে আনেন সিলেটের সদ্য বিদায়ি ডিসি সারওয়ার আলম। এই উদ্যোগ নিতে গিয়েই তিনি রোষানলে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



