রংপুরের তারাগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ মুজাহিদ ইসলাম (১৮) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করলে তিনি বিচারকের নিকট ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
এর আগে গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও মুজাহিদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক আজ মঙ্গলবার বিকেলে তারাগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুরে মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল শিশুটি। জুমার নামাজের পর সে যখন রাস্তার পাশে একটি পাটখেতের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আসামি মুজাহিদ ইসলাম কৌশলে তাকে পাটখেতের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে শিশুটিকে একটি ভিডিও দেখানো হয় এবং পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে মুজাহিদ তার বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে তাকে হত্যা করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মরদেহ উদ্ধার ও মামলা
পরদিন গত শনিবার দুপুরে তারাগঞ্জের ওই গ্রামের একটি সেচ ক্যানেলের ধারের পাটখেত থেকে শিশুটির নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনার পর থেকেই অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুশান্ত কুমার রায়ের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শেষ পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।



