বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, প্রতি আউন্স ৪৫৬০ ডলার
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, প্রতি আউন্স ৪৫৬০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার অগ্রগতির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

সোমবার (২৫ মে) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০২:১৯ মিনিটে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৬০.০৯ ডলারে। অন্যদিকে, আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তি থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৬২.১০ ডলারে পৌঁছেছে।

কারণ বিশ্লেষণ

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-ভিত্তিক এই মূল্যবান ধাতুটি কেনা সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে, যা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য বাজারে আশার আলো দেখাচ্ছে। এ চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হতে পারে। এ সম্ভাবনায় তেলের দাম কমছে, যা প্রকারান্তরে মুদ্রাস্ফীতির দৃষ্টিকোণ থেকে স্বর্ণের বাজারকে একটি কাঙ্ক্ষিত চাঙ্গা ভাব এনে দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিনিধিদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুতই কোনো চুক্তি হচ্ছে—এমন প্রত্যাশাকে কিছুটা হালকা করে দেখিয়েছে তার প্রশাসন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর ঠিক একদিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওয়াশিংটন ও ইরান শান্তি চুক্তির একটি সমঝোতা স্মারকের অধিকাংশই চূড়ান্ত করে ফেলেছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও, তারা একটি শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে—এমন আশাবাদে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও স্বর্ণের সম্পর্ক

সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম মুদ্রাস্ফীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি চড়া হয়, যা সুদহার দীর্ঘদিন চড়া রাখতে বাধ্য করে। স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হলেও, উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশহীন এ ধাতুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৭.৮১ ডলারে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২.১ শতাংশ বেড়ে ১,৯৬৩.৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৪ শতাংশ বেড়ে ১,৩৮১.৮২ ডলারে ঠেকেছে।