জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নাম দেখে বিস্মিত নেত্রীর পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই কমিটিতে নিজের নাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন এক নেত্রী। এরপর নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, শিগগিরই পদত্যাগী নেত্রীকে বাদ দিয়ে তারা সংশোধিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করবে।
কমিটি ঘোষণা ও নেত্রীর প্রতিক্রিয়া
আজ শনিবার দুপুরে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক, মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্যসচিব ও নুসরাত তাবাসসুমকে মুখ্য সংগঠক করে নারীশক্তির আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তিনজনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আরও ৪৮ জনকে স্থান দেওয়া হয়।
নারীশক্তির এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাগুফতা বুশরাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মনজিলা ঝুমাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে পাঁচজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, ছয়জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব, সাতজনকে যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও ৩০ জনকে সংগঠক করা হয়েছে।
এই কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী দ্যুতি অরণ্য চৌধুরীকে। তিনি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক ও জাতীয় যুবশক্তির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদেও ছিলেন। কিন্তু নারীশক্তির কমিটিতে তাঁকে পদ দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি এই নেত্রী। বিকেলে তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের নাম দেখে বিস্মিত। এই কমিটির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এনসিপির সব প্রকার পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’
পদত্যাগের পেছনের কারণ ও নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির যুক্ত হওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল দ্যুতি অরণ্য চৌধুরীর। এই ঐক্য হওয়ার পর থেকে তিনি এনসিপির রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার আগে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর নাম নারীশক্তির কমিটিতে রাখা হয়।
জানতে চাইলে নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী আমাদের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। সে জন্যই তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটি প্রকাশের পর তিনি দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগের কথা বলছেন। আমরা শিগগিরই সংশোধিত কমিটি প্রকাশ করছি।’ সন্ধ্যা সাতটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশোধিত কমিটি প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নারীশক্তির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ও সদস্য নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পদত্যাগী নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।



