যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যে কোনো চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হবেন। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান
ট্রাম্প বলেন, 'তার কোনো বিকল্প থাকবে না। আমি সিদ্ধান্ত দিই, সব সিদ্ধান্ত আমি নিই—তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।' তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রই এ বিষয়ে মূল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি আরও জানান, সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া আগের মন্তব্যে তিনি বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরাইল যেন পালটা আঘাত না করে, সে বিষয়ে তিনি নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন—যাতে আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য একটি চুক্তি টিকিয়ে রাখা যায়।
হামলার ঘটনা ও প্রতিক্রিয়া
শনিবার (৬ জুন) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বিমান অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। এতে আহত হয়েছে ৪ শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জন। বৈরুতে আইএএফ হামলা চালানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, এতে খুশি হননি তিনি।
রোববারের হামলার পর ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বৈরুতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হামলার জবাব দিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে উত্তর ইসরাইলে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আকাশপথে নিক্ষিপ্ত এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলেও জানানো হয়।
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে লেবাননের রাজধানীতে ইসরাইলি হামলার জবাবে পালটা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা। ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো চলমান আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, 'আমরা দেখব কীভাবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। এটা এমন একটি সংঘাত যা ৩,০০০ বছর ধরে চলছে—বা কেউ কেউ বলেন ৪৭ বছর ধরে।'



