বগুড়া মহানগরীর চারমাথা এলাকায় অবস্থিত জেলা শ্রমিক দল নেতার সেঞ্চুরি মোটেলে নারী নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়ে যৌন উত্তেজক সিরাপ সেবন করায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৫০) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের ম্যানেজারের দাবি উপেক্ষা করে সিসিটিভি ফুটেজে বোরকা পরিহিত এক নারীর সঙ্গে বিপুলকে দেখা যাওয়ায় পুলিশ ও অন্য সবার মনে এ ধারণা জন্মেছে।
পরিবারের অভিযোগ
মৃতের স্ত্রী লিপি রানী পাল দাবি করছেন, সারিয়াকান্দির রক্সি নামে এক ব্যক্তি তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে তার স্বামী মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন যে তিনি রক্সির বোনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছেন এবং রাত ১টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্ত্রীর দাবি, রক্সি পরিকল্পিতভাবে বিপুলকে হত্যা করেছে।
মেয়ের বক্তব্য
বিপুলের মেয়ে তিথি রানী পাল, যিনি প্যারা-মেডিকেল কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্রী, জানান যে হোটেলের কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, বাবাকে হত্যার ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্যই এসব বলা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে কাকে দেখা গেছে তাও পরিষ্কার হওয়া দরকার। রক্সিকে গ্রেফতার করলে মৃত্যুরহস্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে বিপুলের সঙ্গে বোরকা পরিহিত এক নারীকে দেখা গেছে এবং কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ঘুমের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নারী নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়েই যেকোনোভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবার হত্যা দাবি করলে তাদের মামলা দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা দিতে আসেননি।
ঘটনার বিবরণ
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিপুল এক নারীসহ হোটেলে এসে দোতলার একটি কক্ষে ওঠেন। দুই ঘণ্টা পর তারা লিফটের ৬ষ্ঠ তলার ৬১০ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে ফুর্তির পর ওই নারী বেরিয়ে যান। পরদিন শনিবার বেলা ১২টায় কর্মচারীরা রুম ছেড়ে দেওয়ার জন্য ডাকতে গেলে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিকল্প চাবি দিয়ে রুম খুলে বিছানায় বিপুলের লাশ দেখতে পায়। কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক সিরাপ, ঘুমের ট্যাবলেট, কোমল পানীয় ও খাবারের পানির বোতল উদ্ধার করা হয়।
হোটেলের ভূমিকা
সেঞ্চুরি মোটেলের ব্যবস্থাপক এনামুল হক প্রথমে দাবি করেন যে বিপুল একাই কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন, কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার পর ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয়। স্থানীয়রা জানান, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে যৌন ব্যবসা চলে আসছে এবং বোর্ডারদের ফ্রি টিস্যু, পানি, তোয়ালে ও সাবান সরবরাহ করা হয়। হোটেলের মালিক জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হামিদ মিটুল ফোন বন্ধ রাখায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার নূর আলম বলেন, বিপুলের সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল না। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম আরও জানান, পরিবার থেকে মামলা পেলে তদন্ত করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় আসেননি।



