নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় সুরমা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার স্বামী ওয়াসিম মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার ওয়াসিম মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিন বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার মানশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা
নিহত সুরমা আক্তার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী ওয়াসিম মিয়া মোহনগঞ্জ উপজেলার মানশ্রী গ্রামের আব্দুর ছাত্তারের ছেলে। তাদের সংসারে সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও আড়াই বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। এই শিশু দুটি এখন পিতৃহীন ও মাতৃহীন অবস্থায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির একটি কক্ষে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সুরমার মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ ও মামলা
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর আগে সুরমার সঙ্গে ওয়াসিম মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওয়াসিম মিয়া তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রায়ই গালাগাল ও কটূক্তি করতেন। ঘটনার দিনও তাকে অপমানজনক কথা বলা হয়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুরমা আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সুরমার ভাই আনিছ মিয়া বাদী হয়ে ওয়াসিম মিয়াসহ তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলার পরপরই প্রধান আসামি ওয়াসিম মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে।



