শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রথম আলো বন্ধুসভার মানববন্ধন
শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রথম আলো বন্ধুসভার মানববন্ধন

শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীর কাওরান বাজারে মানববন্ধন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘বিচার চাই’ স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

কর্মসূচির আয়োজন

শুক্রবার (২২ মে) বিকাল ৪টায় কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘শিশু ও নারী নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’—এই স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

বক্তাদের বক্তব্য

মানববন্ধনে বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি ও শিক্ষক রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী বলেন, “নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।” তিনি আরও বলেন, “প্রথম আলো বন্ধুসভা সবসময়ই বিচারহীনতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আমরা চাই নারী-শিশুদের প্রতি যারা অন্যায় করে, তাদের কঠোর বিচার হোক।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উন্নয়নকর্মী ও বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি নূর ই আলম বলেন, “আমাদের রাস্তায় দাঁড়ানোর কথা ছিল না। কিন্তু আজ বাধ্য হয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। ধর্ষক ও খুনিরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, এতে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। এভাবে আর চলতে পারে না।” তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আশফাক উজ জামান বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। একটি ঘটনার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামার মধ্যেই আরেকটি ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসছে।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মাহমুদা মুহসিনা বুশরা বলেন, সচেতনতা বাড়াতে পারলে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

মানববন্ধনে যোগ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আইনের নানা ফাঁক-ফোকর ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তিনি সব ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিচার নিশ্চিত করতে পারলে ধর্ষকদের থামানো সম্ভব।” এ সময় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের হালনাগাদ, সব ধরনের ধর্ষণ ও বলাৎকারের বিচার নিশ্চিত করা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান। একই সঙ্গে মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের পরিচালক নাবিলা দুর্দানা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ চাই।”

সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশে ধর্ষণের মামলার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ। দেশে প্রায় ১৮ বছরে ধর্ষণের শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে পাঁচজনের। এছাড়া ১৫০ জনের মতো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। তাদের সাজা এখনও কার্যকর করা হয়নি। বহু মামলার রায় কার্যকর হয়নি, ফলে ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর আদালতের দ্বারে ঘুরছেন। তিনি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্লেকার্ড ও স্লোগান

মানববন্ধনে বিচারের দাবিসংবলিত ব্যানারের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন বক্তব্য লেখা প্লেকার্ডও। তাতে লেখা ছিল, ‘ধর্ষণ-নিপীড়ককে সামাজিকভাবে বয়কট করুন’, ‘চাই বিচার, চাই দৃষ্টান্ত’, ‘বলাৎকার ট্যাবু নয়, বলাৎকারকারীর বিচার নিশ্চিত করুন’, ‘সব পক্ষের ঐক্য, হোক শিশু নির্যাতন বন্ধ’, ‘ধর্ষক নয়, ধর্ষিতার মানববন্ধন সবার আগে’সহ নানা স্লোগান।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন কর্মসূচি বিকাল ৫টায় শেষ হয়।