চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় এক শিশুকে গলায় ছুরি ধরে ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ধর্ষণের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে দর্শনা থানার নেহালপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের বেলে মাঠ এলাকায় তিন যুবক মিলে এক শিশুকে গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকে ভুট্টাখেতে নিয়ে একই গ্রামের হাবিল মিয়ার ছেলে মিরাজ (২৬) ধর্ষণ করে। এ সময় আব্দুস সামাদের ছেলে পলাশ (২৫) পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং হোসেন আলীর ছেলে জনি (২৩) আশপাশে পাহারা দেয়। পরে নেহালপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুল (২০) সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
পুলিশের গ্রেফতার ও তদন্ত
ঘটনার পর দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও বুধবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ, উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সামাজিক ও মানসিক দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বুধবার রাতে দর্শনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী পলাশ, সহযোগী জনি ও আব্দুলকে গ্রেফতার করে। তবে প্রধান অভিযুক্ত মিরাজ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, ভিকটিম ও আসামিদের বাড়ি দর্শনা থানার মধ্যে হলেও ঘটনাস্থল চুয়াডাঙ্গা সদর থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় মামলা সেখানে দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার তিন আসামিকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পলাতক মূল অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



