রমজান সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী
রমজানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

রমজান সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

রমজান মাসকে সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলমূল, সবজি, খেজুর, ছোলা, ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

বাজারে পণ্যের দামের হালচাল

বড় লেবু হালিতে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ টাকার মধ্যে। মাঝারি ও ছোট লেবু হালি ৫০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম না থাকায় সরবরাহ কম এবং রমজানকে ঘিরে চাহিদা বেড়েছে। রমজানে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা বাড়ে। এর মধ্যে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা, খেজুর, লেবু, শসা ও টমেটো অন্যতম।

  • খেজুর কেজি ২৫০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
  • শসার দাম কেজিতে ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে।
  • টমেটো ১০০–১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা কেজি।
  • ধনেপাতা ১০ টাকা এবং ফুলকপি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমজানের জনপ্রিয় ইফতারি ‘বেগুনি’র প্রধান উপকরণ বেগুনের দাম কেজিতে ৮০–৯০ টাকা। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০–৬৫ টাকা, রসুন ১৪০–১৭০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা, বেসন ৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা এবং খেসারি ডাল ১০০ টাকা কেজি দরে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাছ ও মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

মাছ ও মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। সোনালী মুরগি কেজি ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার ২০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্রেতা ও ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

লেবু বিক্রেতা মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘এহন লেবুর সিজন না চাহিদা বেশি তাই দাম বেশি। লেবুর সিজনে আমরা ১০-২০ টাকা হালি লেবু বেচতাম।’ সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘কেনা দাম বেশি তাই বেচিও বেশি। গতবার রোজার চেয়ে এবার কাচা সবজির দাম অনেক কম।’

অন্যদিকে ক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, ‘রমজান এলেই দাম বেড়ে যায়। সিন্ডিকেটের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এভাবে চলতে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’ আরেক ক্রেতা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আগে ১ হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজার করা যেত আর এখন দুই-তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়। রোজার সময় ইফতারের জন্য বাড়তি খরচ লাগে কিন্তু আয় তো বাড়ে না। বাজারে এসে প্রতিদিনই নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতামত

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদা, সরবরাহে ঘাটতি এবং পাইকারি বাজারের অস্থিরতা এই তিন কারণেই প্রতিবছর এ সময় দাম বাড়ে। তবে কার্যকর বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।