গ্রীষ্মকালে শরীরের পাশাপাশি হজমতন্ত্রের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। অনেকেই মনে করেন, তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললেই গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শুধু খাবার নয়, খাবার খাওয়ার ধরন এবং খাওয়ার আগে-পরে কিছু ছোট ছোট অভ্যাসও হজমের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অজান্তেই এমন কিছু ভুল আমরা প্রতিদিন করে চলি, যেগুলো গরমের সময়ে পেটের অস্বস্তি, গ্যাস, অম্বল ও পেট ভার লাগার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে খাচ্ছেন এবং খাওয়ার আগে বা পরে কী অভ্যাস মেনে চলছেন—সেটিও হজমের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস রয়েছে, যেগুলোকে আমরা ভুল বলেই মনে করি না, অথচ সেগুলোই গ্যাস-অম্বলের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। সেগুলো হলো—
১. খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে না খাওয়া
তাড়াহুড়ো করে খাবার গিলে খাওয়ার অভ্যাস হজমের অন্যতম বড় শত্রু। খাবার ঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে পেটের ভেতরে তা ভাঙতে বেশি সময় লাগে। যদিও বিভিন্ন উৎসেচকের সাহায্যে খাবার হজম হয়, তবে বড় টুকরোগুলো ভাঙতে দেরি হওয়ায় বদহজম, গ্যাস ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই খাবার সময় ধীরে-সুস্থে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাওয়ার আগে পানি পান করতে পারেন, এমনকি খাওয়ার সময়ও অল্প অল্প পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে খাবার শেষ করেই সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করা ঠিক নয়।
২. খাওয়ার পর চা বা কফি পান করা
অনেকেরই খাবারের পরপর চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এতে গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। শুধু দুধ চা বা কফিই নয়, অনেক ভেষজ চাও হজমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি।
৩. খাওয়ার পরপর ফল খাওয়া
খালি পেটে পানি আর ভরা পেটে ফল—এই ধারণা বহুদিনের। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফল খেলে হজমের গোলমাল হতে পারে। ফল খাওয়ার আদর্শ সময় হলো সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়। চাইলে বিকেলের দিকেও ফল খেতে পারেন। এতে শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং হজমেও সমস্যা হয় না।
৪. খেয়েই শুয়ে পড়া
অনেকেই বেশি খাওয়ার পর আর বসে থাকতে পারেন না—সরাসরি বিছানায় চলে যান। অথচ এই অভ্যাসই হজমের সমস্যার বড় কারণ হতে পারে। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বসে থাকা বা হালকা হাঁটাহাঁটি করলে খাবার দ্রুত হজম হয়। তাই খাওয়া শেষ করেই শুয়ে পড়ার অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব বদলানো প্রয়োজন।
৫. গরমে শরীরের পানির ঘাটতি উপেক্ষা করা
গরমের সময় শরীর দ্রুত পানি হারায়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে হজম প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়। ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অম্বলের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত পানি, ফল ও পানিযুক্ত খাবার খেলে হজমও ভালো থাকবে, শরীরও থাকবে সতেজ।
হজমের সমস্যা সবসময় শুধু খাবারের দোষে হয় না; অনেক সময় আমাদের অজান্তের কিছু অভ্যাসই এর জন্য দায়ী থাকে। তাই গরমের সময়ে সুস্থ থাকতে শুধু হালকা খাবার খেলেই হবে না, খাওয়ার নিয়ম ও সময়ের দিকেও নজর দিতে হবে। ধীরে-সুস্থে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, খাওয়ার পরপর না শোয়া এবং সঠিক সময়ে ফল বা পানীয় গ্রহণের মতো ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই মিলতে পারে বড় স্বস্তি। সচেতন থাকলে গরমেও হজম থাকবে স্বাভাবিক, শরীরও থাকবে সতেজ ও আরামদায়ক।



