নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লায় একটি খ্যাপা বানরের আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বানরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বানরটির হাত থেকে রেহাই পেতে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য
লালবাজার মহল্লার বাসিন্দা কুরিয়ার ব্যবসায়ী মো. মিলন আখন্দ জানান, তিনি শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে ভিন্ন জায়গা থেকে একটি খ্যাপা বানর মহল্লায় অবস্থান নিয়েছে। বানরটি ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের ওপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এটি রান্নাঘর, খাবার টেবিল, হোটেল ও বিভিন্ন দোকানে ঢুকে মানুষকে আক্রমণ করে খাবার নিয়ে যায়। এলাকার মানুষ বাড়িতে থাকার সময়ও দরজা বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় বানরের আক্রমণের ভয় পাচ্ছে।
আহতদের বিবরণ
লালবাজার এলাকার বাসিন্দা কাকলী রায় (৩০) বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তিনি দোকানের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় বানরটি লাফ দিয়ে তার হাতে কামড় দেয়। এতে একটি আঙুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অপারেশন করে রগ জোড়া দিতে হয়েছে। এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। তার প্রতিবেশী সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, একদিন বানরটি তার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল। তিনি দরজা আটকাতে গেলে বানরটি তার কুনইয়ের নিচে কামড় দিয়ে গর্ত করে ফেলে। এজন্য তাকে হাসপাতালে গিয়ে সাতটি ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে।
অপর প্রবীণ বাসিন্দা কল্যাণী পাল (৬০) বলেন, বানরটি তাদের খাবার টেবিল থেকে পাউরুটি নিয়ে পালাচ্ছিল। তিনি বাধা দিলে বানরটি তার হাতে কামড় দেয়। ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। বয়োবৃদ্ধা পূর্ণিমা সেন (৭৫) বলেন, বানরটি বাড়িতে ঢুকে তাকেও কামড় দিয়েছে। বানরটি বেশ শক্তিশালী, ওর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেও তিনি পারতে পারেননি। ওর ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত।
প্রতিবেশী জিসান ও নাজমুল ইসলাম বলেন, বানরের ভয়ে তারা আর মহল্লার চায়ের দোকান বা খাবারের দোকানে দাঁড়াতে বা বসতে পারেন না। বাবা-মা তাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে দিতে ভীষণ ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন।
হাসপাতাল ও বনবিভাগের বক্তব্য
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার সিনিয়র স্টাফ নার্স পারভিন আক্তার বলেন, মাঝে মধ্যেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে রোগী আসছেন। গত তিন মাসে ১৫ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অনেকে বাইরে থেকেও ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। বনবিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লালবাজারের বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার চেষ্টা করেও বানরটিকে ধরা যায়নি। তারা বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছেন।
জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার জেলা প্রশাসনকে অবগত করায় তিনি নিজে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাটোরে ডেকে আনেন। বনবিভাগের লোকজন ম্যানুয়ালি বানরটিকে ধরার চেষ্টা করে সফল হননি। আগামী দিনে গুলি বা অচেতন করে বানরটিকে ধরার চেষ্টা করা হবে বলে বনবিভাগ আশ্বস্ত করেছে।



