নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের মনোরটেক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় মাধবদীর গদারচরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসচাপায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
শিবপুরের দুর্ঘটনায় নিহত দুজন হলো অটোরিকশাচালক মো. রুবেল শেখ (১৭) ও যাত্রী জুনায়েদ মিয়া (১২)। রুবেল ও জুনায়েদ উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের লাকুশি গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে মাধবদীতে নিহত ব্যক্তির নাম কুসুম আলী (৩৫)। তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার তাহেরাবাদ এলাকার মো. শহর আলীর ছেলে।
শিবপুরের দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জানান, আজ বেলা ১১টায় লাকুশি গ্রাম থেকে রুবেল শেখের অটোরিকশায় চেপে মা মাহফুজা আক্তার ও ছেলে জুনায়েদ মিয়া শিবপুর সদরে যাচ্ছিল। অন্যদিকে একটি প্রাইভেট কার শিবপুর থেকে মনোহরদীর দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি চক্রধা ইউনিয়নের মনোরটেক এলাকায় ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কে ওঠার পর ওই প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজনই আঞ্চলিক সড়কে ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হয়।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জুনায়েদকে মৃত ঘোষণা করে রুবেল শেখকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে রুবেল শেখেরও মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে শিবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল মোস্তফা তাদের বাড়িতে গিয়ে দুটি লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মোসতানশির বিল্লাহ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। গুরুতর আহত রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি, ঢাকায় নেওয়ার পথে রুবেলেরও মৃত্যু হয়েছে।’
আইনগত ব্যবস্থা
শিবপুর থানার এসআই মো. জামাল মোস্তফা বলেন, প্রাইভেট কারের ধাক্কায় অটোরিকশার চালক-যাত্রীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রাইভেট কারটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মাধবদীতে বাসচাপায় নিহত
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় মাধবদী থানার গদারচর এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইসলাম সিএনজি পাম্পের সামনে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কুসুম আলী (৩৫) নিহত হন। স্থানীয় লোকজন জানান, ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাচ্ছিলেন কুসুম আলী। এ সময় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবদীর গদারচর এলাকার ইসলাম সিএনজি পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে কুসুম আলী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে ইটাখোলা হাইওয়ে থানার পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
ইটাখোলা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।



