ঈদুল আজহায় রাজধানীর পশুর হাট জমে উঠেছে, বড় গরুর নামে সেলিব্রিটি ট্যাগ
ঈদুল আজহায় পশুর হাটে বড় গরুর নামে সেলিব্রিটি ট্যাগ

আর মাত্র দুই দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট। ট্রাক পিকআপে করে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশু নিয়ে হাটে আসছেন ব্যাপারীরা। বিশাল আকৃতির পশু গুলোর হরেক রকমের নাম নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে কোরবানির জন্য গরু দেখছেন। দাম যাচাই-বাছাই আর পছন্দের পশু খুঁজতে এক হাট থেকে অন্য হাটে ঘুরছেন। অধিকাংশ ক্রেতাদের বেশি চাহিদা ছোট ও মাঝারি ধরনের গরু। বড় গরু দামাদামি করলেও তেমন কাউকে কিনতে দেখা যায়নি।

বিক্রেতারা বলেছেন, বেচাবিক্রি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। খামারিদের আনা গরুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ক্রেতাদেরও মিলছে বিভিন্ন দামের পশু। তবে ঈদের একদিন আগে আরও বেশি বেচাবিক্রি হবে। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। তবে দামে মিললেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগেই সব গরু বিক্রির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। তবে শঙ্কা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসলে গুনতে হবে লোকসান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নজর কাড়তে বড় গরুর হরেক রকমের নাম

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে উৎসুক মানুষের আকর্ষণ বাড়াতে খামারি ও ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর বিভিন্ন নাম রেখেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এমনকি দেশের খল অভিনেতা ডিপজল ও বিতর্কিত রাজনীতিবিদ ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’ নামও রাখা হয়েছে গরুর নাম।

ইতোমধ্যে দেশে কোরবানির পশু ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান করে নিয়েছে এই পশু। এছাড়া দেশের অনেক নায়ক ও আলোচিত ব্যক্তিদের নামে পশুর নামকরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে অনেক পশু বিক্রেতা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পশু ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, “বড় পশুর নাম সেলিব্রেটিদের নামে রাখলে ক্রেতার সংখ্যা বেশি হয়। যদিও উৎসুক সবাই ভিড় করে তবে এটা দেখতেও ভালো লাগে। এই কারণে আমার মহিষের নাম রেখেছি ডিপজল।” আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “পশুদের নামের কারণে অনেক সময় তা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফলে দামও ভালো পাওয়া যায়। যদিও আগেও এই প্রচলন ছিল। কিন্তু তখন তো আর ফেসবুক ছিল না।”

এবারও কি হাট খালি হয়ে যাবে

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, কয়েক বছর ধরেই দেশে পশু কোরবানির সংখ্যা কমছে। গত বছর (২০২৫) ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৯১ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। ২০২৪-এ হয়েছিল ১ কোটি ৪ লাখ পশু কোরবানি অর্থাৎ ২০২৫-এর চেয়ে ১৩ লাখ বেশি।

গত বছর ৩৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি কোরবানির পশু অবিক্রীত রয়ে যায়। অপরদিকে এই বছর ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানির যোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানি কম হতে পারে। সংখ্যায় যা ৯১ লাখের চেয়েও কম হবে।

বিক্রেতারা বলছেন, হাট খালি হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। তারা চাইলেই অবিক্রীত পশুগুলো পরের বছরের কোনবানিতে বিক্রি করতে পারেন। আবার সেটা বছরের যেকোনও সময়ও বিক্রি করতে পারেন। মাংসের দাম বেশি হওয়ায় কোরবানি ছাড়াও সাধারণ সময়ে পশুর ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই মাঝেমধ্যে দাম না পেলে তারা গরু ফেরত নিয়ে যান।

ঝিনাইদহ থেকে ধোলাইখাল কোরবানির হাটে আসা জব্বার আলী বলেন, “দেশে বছরে যত গরু জবাই হয়, তার অর্ধেক হয় কোরবানির ঈদে। আর বাকি অর্ধেক সারাবছর বিয়ে ও দৈনন্দিন মাংসের দোকানে সরবরাহ করা হয়। তাহলে আমরা তো লোকসান দিয়ে গরু বেচবো না। তবে গরু আনা নেওয়ায় দুর্ভোগ এড়াতে নামমাত্র লাভ হলেও তা বিক্রি করে দেই।”

গরুর দাম বেশি

রাজধানী ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে দুই দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে বেচাকেনা। এখন পর্যন্ত বেচাকেনা আশানুরূপ না হলেও এবার গরুর দাম বেশি দেখা গেছে। যে-কারণে ক্রেতাদের কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। হাটে যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই বাজার দেখে-শুনে অন্য হাটে নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী পশু খুঁজে নিচ্ছেন।

খামারি ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। যে হাটগুলো বসছে সেখানে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। ছোট গরু হলেও লাখ টাকার নিচে তেমন গুরু নেই। চার থেকে সাড়ে চার মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম দেড় লাখ টাকার ওপর হাঁকছেন বিক্রেতারা।

পোস্তগোলা হাটের ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন গরু ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন। গত বছর এই হাটেই ১২টি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার গরু প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। বড় গরু পালনে লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হয়েছে। বড় গরু দৈনিক হাজার টাকার খাবার খায়। এই কারণে এবার গরুর দাম খানিকটা বেশি।”

ধোলাইখাল কোরবানির পশুর হাটের কোরবানির গরু কিনতে আসা সুমন তালুকদার বলেন, “এই বছর সব হাটেই গরুর দাম অনেক চড়া। যে গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চায়, সেটা আমার কাছে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা মনে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি গরুর দাম ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি বলছেন বিক্রেতারা।”