কুরবানির ঈদ আমাদের জীবনে আনন্দ, ত্যাগ ও সম্প্রীতির এক অনন্য উৎসব। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির অন্যতম মাধ্যম হলো খাবার। তবে এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম হলে তা শরীরের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর রান্না এবং পর্যাপ্ত পানি ও সবজি গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ থেকে উৎসব উপভোগ করা সম্ভব।
মাংস খাওয়ার সঠিক পরিমাণ
বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার ক্লিনিকের সিনিয়র নিউট্রিশনিস্ট ও বায়োজিন কসমেসিউটিকেলসের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ইফাত বলেন, সুস্থ স্বাভাবিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (ওজন ৬০-৭০ কেজি) দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে এই পরিমাণ একবারে না খেয়ে তিন বেলায় ভাগ করে খাওয়া ভালো। একই দিনে ডিম, মুরগি বা অন্যান্য প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে মাংসের পরিমাণ ২০০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। তারা দিনে ৬০ থেকে ৯০ গ্রামের বেশি লাল মাংস না খাওয়াই ভালো। একই সঙ্গে সেদিন অন্য কোনো ভারি প্রোটিনজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি
মাংস রান্নার আগে লেবুর রস, টকদই, আদা, রসুন বা ভিনেগার দিয়ে মেরিনেট করে রাখলে তা সহজপাচ্য হয়। কম তেলে এবং বেশি সবজি দিয়ে রান্না করা ভালো। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, ঘি বা মাখনের ব্যবহার কমানো উচিত। বেক, গ্রিল, স্টিম বা স্ট্যু ধরনের রান্না ভাজা খাবারের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। বিফ স্টেক, গ্রিলড টিক্কা, সবজিসহ বেকড মিট, স্যুপ বা হালিম ভালো বিকল্প হতে পারে।
খাবারের সঙ্গে সবজি ও সালাদ
প্রতি ৫০ গ্রাম মাংসের সঙ্গে অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খেলে শরীরে আঁশের ঘাটতি কমে এবং হজম ভালো হয়। খাবার শুরু করার আগে সালাদ বা সবজি খেলে অতিরিক্ত ভাত বা পোলাও খাওয়ার প্রবণতা কমে।
হজম সহায়ক পানীয়
ভারি খাবারের পর হজম ঠিক রাখতে বোরহানি, টকদইয়ের ঘোল, জিরাপানি, আদাপানি বা ডাবের পানি খাওয়া উপকারী। অন্যদিকে কোমল পানীয়, কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত ড্রিংকস শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাই এড়িয়ে চলা উচিত।
যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করতে পারেন। সুস্থ থেকে ঈদ উদযাপন করতে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সংযম—দুটোই জরুরি।



