পদ্মায় ৩৫ কেজির বাঘাইড় মাছ, ৬৬ হাজার টাকায় বিক্রি
পদ্মায় ৩৫ কেজির বাঘাইড় মাছ, ৬৬ হাজারে বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির একটি বাঘাইড় মাছ। মাছটির ওজন ৩৫ কেজি ৮০০ গ্রাম, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। রোববার (২৪ মে) ভোরে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের কলাবাগান এলাকায় স্থানীয় জেলে খলিল হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

মাছ ধরার ঘটনা

জানা গেছে, খলিল হালদার তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। তারা দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের নিচে কলাবাগান এলাকায় জাল ফেলেন। ভোরে জাল তুলতে গিয়ে তারা দেখতে পান একটি বড় আকারের বাঘাইড় মাছ জালে আটকে রয়েছে। মাছটি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন ভিড় জমায়।

মাছ বিক্রির প্রক্রিয়া

পরে মাছটি দৌলতদিয়ার রেজাউল মণ্ডলের আড়তে বিক্রির জন্য আনা হয়। সেখানে ওজন করে দেখা যায় মাছটির ওজন ৩৫ কেজি ৮০০ গ্রাম। উন্মুক্ত নিলামে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে ৬০ হাজার ৮৬০ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ। এরপর তিনি মাছটি ১ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি দরে ৬৬ হাজার ২৩০ টাকায় এক কাতারপ্রবাসীর কাছে বিক্রি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বলেন, "পদ্মায় এত বড় বাঘাইড় মাছ খুব কমই পাওয়া যায়। এজন্য বেশি দাম দিয়েই মাছটি কিনেছেন। পরে সেটি এক কাতারপ্রবাসীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।" মাছটি সিলেটে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জেলের প্রতিক্রিয়া

জেলে খলিল হালদার বলেন, "রাতে কয়েকবার জাল ফেলেও মাছ পাননি। শেষবার জাল ফেলতেই মাছটি ধরা পড়ে।" তিনি আরও বলেন, মাছটি বিক্রি করে তিনি এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। তাঁর মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, "বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বাঘাইড় মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও মৎস্য আইনে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।" তিনি আরও বলেন, "মাছটি পেয়ে জেলে ভালো দাম পেয়েছেন, যা তাঁর জন্য লাভজনক হয়েছে।" তবে বাঘাইড় মাছ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।