এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে গাঁজা পাচারের সময় সুজন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) সকালে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাধীন তালতলা বাজার এলাকায় এক অভিযানে ওই যুবককে সিলিন্ডার ভর্তি গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক যুবকের পরিচয় ও পাচার পদ্ধতি
আটক সুজন মিয়া উপজেলার কচাকাটা থানার শোভারকুটি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তিনি নিয়মিত ভারত থেকে গাঁজা পাচার করে ঢাকায় পাঠাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সুজন মিয়া শুক্রবার ভারত থেকে গাঁজার একটি চালান নিয়ে এসেছেন, এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। রাতের বেলা সুজন মিয়া ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে গেলে পুলিশ বিষয়টি আঁচ করতে পারে। সকালে সুজন মিয়া সিলিন্ডার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন – এমন তথ্যে তালতলা বাজারে অভিযান চালায় পুলিশ। এএসপি মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে কচাকাটা থানা পুলিশ অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় সিলিন্ডারসহ সুজনকে আটক করা হয়। পরে সিলিন্ডার কেটে ভেতর থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ
জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, গ্যাস সিলিন্ডারের মুখের নব খুলে রাতভর তাতে গাঁজা ঢুকিয়েছেন সুজন। এক টুকরো করে ঢুকিয়ে ৮ কেজি গাঁজা ভরেছেন। এই গাঁজা ঢাকায় নিয়ে কেনা দামের দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছেন। অধিক লাভের লোভে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন অভিনব পদ্ধতি অবলম্বনের চেষ্টা করছে।
পৃথক অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার
এদিকে, পৃথক আরেকটি অভিযানে কাচাকাটা থানাধীন মাদারগঞ্জ ঘাটে এক ব্যক্তিকে ১৯৩টি ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম মোন্নাফ (৩৬)। তিনি নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট গ্রামের বাসিন্দা। ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ভাষা (৪০) নামে চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীর হয়ে তিনি নিয়মিত মাদক পরিবহনের কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
এএসপি বলেন, ‘সুজন সম্ভবত একই পদ্ধতিতে এর আগেও গাঁজা পরিবহন করেছিল। আগে সফল হওয়ার কারণে আবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। কিন্তু এবার সে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। গাঁজা পরিবহনের অভিযোগে সুজন এবং ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মোন্নাফ ও শফিকুলকে আসামি করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।’



