হিলারি ডাফের অনুপ্রেরণামূলক সমাবর্তন বক্তৃতা
হিলারি ডাফের অনুপ্রেরণামূলক সমাবর্তন বক্তৃতা

মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী হিলারি ডাফ সম্প্রতি নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা দিয়েছেন। স্নাতকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'অভিনন্দন, স্নাতকেরা! তোমাদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা দেখে আমি মুগ্ধ। সত্যি বলতে কিছুটা হিংসাও হচ্ছে। কারণ, আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছিল তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই। আমি কখনো ক্লাসে বন্ধুদের চিরকুট পাঠাতে পারিনি, আমার কোনো লকার ছিল না। সমাবর্তনের এই গাউন পরার সৌভাগ্যও হয়নি। তাই তোমাদের এই অর্জনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। আজকের দিন শুধুই তোমাদের।'

অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'প্রিয় অভিভাবকেরা, আপনাদের অভিবাদন। আদরের সন্তানকে এই পৃথিবীর বুকে ছেড়ে দেওয়ার যে সাহস আপনারা দেখিয়েছেন, সেটা প্রশংসার দাবিদার, কারণ কাজটা মোটেও সহজ নয়।' শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, 'প্রিয় শিক্ষকেরা, বছরের পর বছর এমন দারুণ সব ছাত্রছাত্রীকে বাইরের দুনিয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলার অনুভূতি যে কী অসাধারণ হতে পারে, আমি সেটা কেবল কল্পনাই করতে পারি।'

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

হিলারি ডাফ স্বীকার করেন, স্নাতকদের উপদেশ দেওয়া তার জন্য অস্বস্তিকর, কারণ তিনি নিজেও প্রতিদিন টিকে থাকার তরিকা খুঁজে বেড়ান। তবে তিনি বলেন, 'অন্যদিক থেকে ভাবলে, আমার এখানে দাঁড়ানোর একটা যৌক্তিকতা অন্তত আছে। অভিজ্ঞতাই তো সবচেয়ে বড় শিক্ষা, যা আমি তোমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি জানান, তিনি ৭ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন এবং ১০ বছর বয়স থেকে অভিনয় শুরু করেন। তিনি বলেন, 'যখন সফলতার পথগুলো খুলতে শুরু করে, তখন মনে হতে পারে সিঁড়ির একেকটা ধাপ পেরোনোর একমাত্র উপায় হলো ‘হ্যাঁ’ বলা। বছরের পর বছর আমি প্রায় সব কাজকেই হ্যাঁ বলেছি। কারণ ভেবেছিলাম, সুযোগ পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার, এটা হেলায় হারানো ঠিক না। সব সুযোগ লুফে নেওয়া উচিত।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘না’ বলার গুরুত্ব

কিন্তু একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, সব সুযোগ গ্রহণ করাই যে ভালো নয়। তিনি বলেন, 'পৃথিবী আমাকে যা দিচ্ছিল, তা কেবল চোখ বুজে গ্রহণ করতে করতে আমি নিজের কণ্ঠস্বরটাই হারিয়ে ফেলছি। কেবল পরিস্থিতি অনুযায়ী সাড়া দিয়ে যাচ্ছি। নিজেকে জিজ্ঞেস করছিলাম না, আমি আসলে কী চাই। এই উপলব্ধি আমার ভাবনার জগতে একটা আমূল পরিবর্তন এনে দিল। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—আমি বুঝতে পারছিলাম, আমাকে ‘হ্যাঁ’ বলার অভ্যাস বদলাতে হবে।'

তাই তিনি গান থেকে কিছুটা বিরতি নেন এবং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, 'বুঝতে পেরেছিলাম ‘না’ বলা মানেই প্রত্যাখ্যান না। বরং দিক বদলানো। যেন আমি যখন সত্যিই প্রস্তুত হব, তখন নিজেকে সেই দিকে নিয়ে যেতে পারি, যেখানে আদতে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম। আমি নিজের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে ফিরে পেয়েছিলাম। জীবনের গল্প নতুন করে লিখেছিলাম।'

ভবিষ্যতের প্রতি বার্তা

হিলারি ডাফ স্নাতকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আজ থেকে ৫ বছর পর তুমি যে চাকরিটা করবে, এখনো হয়তো সে চাকরির অস্তিত্বই নেই। যে শিল্পে বা ক্ষেত্রে তুমি প্রবেশ করতে যাচ্ছ, তার গতিপথ হয়তো এ মুহূর্তে নতুন করে লেখা হচ্ছে। তাই বলে খবরের কাগজের শিরোনাম দেখে ভয় পেয়ো না। তোমার কাজ হয়তো বদলে যেতে পারে, কিন্তু তুমি মানুষ হিসেবে কেমন, সেটা বদলানোর দরকার নেই। মনে রেখো তুমি নিজেই নিজের পথ তৈরি করবে, গাড়ির চালকের আসনে তুমিই আছ।'

তিনি তার সন্তানদের যে বার্তা দেন, তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন: 'তুমি তোমার নিজের চরিত্রেই হাজির হও, কারণ অন্য সব চরিত্র কেউ না কেউ নিয়ে নিয়েছে।'