অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি? ফ্রেশারদের জন্য সেরা ৬ কৌশল
অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি? ফ্রেশারদের জন্য ৬ কৌশল

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচনা— ‘অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি নেই, আর চাকরি না পেলে অভিজ্ঞতা হবে কীভাবে?’ প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়া লাখো তরুণের সামনে এটি এক বিরাট চক্রবূহ্য। পড়াশোনা শেষ করেই কীভাবে অভিজ্ঞতার এই দেওয়াল টপকে প্রথম চাকরিটি পাওয়া সম্ভব? দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট ব্যক্তিত্ব এবং ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে একটু স্মার্টলি চেষ্টা করলেই ফ্রেশার হিসেবেও দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। ফ্রেশারদের জন্য চাকরি খোঁজার সেরা কিছু কৌশল নিয়ে আজকের এই বিশেষ গাইডলাইন।

১. সিভিতে ‘অভিজ্ঞতা’ নয়, ‘দক্ষতা’ ফুটিয়ে তুলুন

চাকরিদাতারা জানেন যে একজন ফ্রেশারের ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকবে না। তাই সিভিতে অভিজ্ঞতার কলাম ফাঁকা রেখে আক্ষেপ না করে, আপনার ‘স্কিল’ বা দক্ষতার ওপর জোর দিন। একাডেমিক প্রজেক্ট, প্রেজেন্টেশন বা থিসিসের কাজগুলো বিস্তারিত লিখুন। ডেটা অ্যানালিটিক্স, গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো কোনও টেকনিক্যাল স্কিল থাকলে তা প্রমাণসহ (পোর্টফোলিও লিংক) যুক্ত করুন। সিভিতে কোনও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বা বড় বড় অনুচ্ছেদ না লিখে এক পাতার একটি ঝরঝরে সিভি তৈরি করুন।

২. ইন্টার্নশিপ ও ভলান্টিয়ারিং হোক প্রথম সিঁড়ি

সরাসরি ফুল-টাইম চাকরি না পেলে ইন্টার্নশিপের সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। অনেক প্রতিষ্ঠানেই ভালো পারফরম্যান্স দেখালে ইন্টার্নশিপ শেষে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংগঠন বা ভলান্টিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতাকে চাকরিদাতারা ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। এটি প্রমাণ করে যে আপনি দলগতভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. লিংকডইন প্রোফাইল সাজিয়ে নিন আজই

বর্তমানে করপোরেট দুনিয়ায় চাকরি খোঁজার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার লিংকডইন। আপনার প্রোফাইলে একটি প্রফেশনাল ছবি ব্যবহার করুন এবং ‘হেডলাইন’-এ আপনার আগ্রহের ক্ষেত্রটি স্পষ্ট করুন। আপনি যে খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, সেই খাতের এইচআর এবং লিডারদের ফলো করুন। নিয়মিত আপনার কাজের ক্ষেত্র বা শেখার জার্নি নিয়ে ছোট ছোট পোস্ট দিন, যা আপনাকে রিক্রুটারদের নজরে আসতে সাহায্য করবে।

৪. প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলুন

‘যার নেটওয়ার্ক যত বড়, তার সুযোগ তত বেশি।’ বিভিন্ন জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার সেমিনার বা প্রফেশনাল ওয়ার্কশপে অংশ নিন। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে পরিচিত হোন এবং আপনার আগ্রহের কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-বোন বা অ্যালমনাইদের সাথে সুসম্পর্ক রাখুন; অনেক সময় অনেক প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আগেই রেফারেলের মাধ্যমে লোক নেওয়া হয়।

৫. শুধু বিডিজবস নয়, চোখ রাখুন সব মাধ্যমে

বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার জন্য বিডিজবস অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও একমাত্র মাধ্যম নয়। বর্তমানে ফেসবুকের বিভিন্ন জব গ্রুপ, লিংকডইনের জব সেকশন এবং বিভিন্ন কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটের ‘ক্যারিয়ার’ পেজে প্রচুর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সময় রাখুন এসব প্ল্যাটফর্ম স্ক্রল করার জন্য।

৬. সফট স্কিলস ও ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি

অনেক সময় দারুণ রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও শুধু যোগাযোগের দক্ষতার অভাবে চাকরি হাতছাড়া হয়ে যায়। ইন্টারভিউ বোর্ডে আত্মবিশ্বাসী থাকা, গুছিয়ে কথা বলা, সমস্যার সমাধান করার মানসিকতা এবং ইতিবাচক বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মতো ‘সফট স্কিল’ বা আচরণগত দক্ষতাগুলো ফ্রেশারদের জন্য সবচেয়ে বেশি যাচাই করা হয়। ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বা বন্ধুদের সাথে ‘মক ইন্টারভিউ’ দিয়ে নিজের জড়তা কেটে নিন।

ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি পেতে ৩ থেকে ৬ মাস, এমনকি এক বছরও সময় লাগতে পারে। এই সময়টাতে হতাশ না হয়ে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার পেছনে সময় বিনিয়োগ করতে হবে। প্রথম চাকরিটি হয়তো আপনার স্বপ্নের চাকরি নাও হতে পারে, তবে কর্মক্ষেত্রে ঢোকার এই প্রথম সুযোগটিই আপনার ভবিষ্যতের বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।