ময়মনসিংহ বন্ধুসভার আয়োজনে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘আরণ্যক’ নিয়ে এক পাঠচক্রের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ মে বিকেলে ময়মনসিংহের আলেকজান্ডার ক্যাসল শিশুকানন স্কুলমাঠ সংলগ্ন স্থানে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
পাঠচক্রে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আরণ্যক’ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ও গভীর জীবনবোধসম্পন্ন উপন্যাস, যেখানে প্রকৃতি, মানুষ ও আত্মঅন্বেষণের গভীর মেলবন্ধন চোখে পড়ে। উত্তমপুরুষের জবানিতে লেখা এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সত্যচরণ শহুরে জীবন ছেড়ে জমিদারি কাজে বিহারের জঙ্গলে এসে বসবাস শুরু করে। ধীরে ধীরে সে প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে তার দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি এবং জীবনবোধ সম্পূর্ণ বদলে যায়।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বলেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ তাঁর ব্যক্তিজীবনে অসম্ভব সুন্দর একটি নিদর্শন হয়ে থাকবে। এই উপন্যাস পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে।
বহুমাত্রিক জীবনচেতনার প্রকাশ
বন্ধু তৃষা তাঁর মতামত প্রকাশ করে বলেন, উপন্যাসে একই জায়গাকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক জীবনচেতনা ফুটে উঠেছে—কেউ বেঁচে থাকার তাগিদে, কেউবা চাকরির সুবাদে, আবার কেউ ভ্রমণের জন্য জায়গাটিকে বেছে নিয়েছে এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য খুব কাছে থেকে উপভোগ করতে পেরেছে। এই বৈচিত্র্যই উপন্যাসটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বন্ধু তুরাবি বলেন, ‘আরণ্যক’ উপন্যাসটি পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। এতে যেমন আছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, তেমনই আছে মানুষের প্রকৃতির প্রতি মমতা। প্রকৃতি মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, চিন্তা করতে শেখায়। প্রকৃতির একদম কাছে থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারা আর দূর শহর থেকে প্রকৃতিকে ভালোবাসা বা উপভোগ করা ভিন্ন দুটি অনুভূতি। প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হলে বা প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে হবে। তবেই প্রকৃতভাবে প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়া যাবে।
সভাপতির মূল্যায়ন
সভাপতি মেহেদী হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আরণ্যক’ উপন্যাসটি শুধু পাঠককে আনন্দই দেয় না, বরং এটি পাঠককে নতুন করে ভাবতে শেখায় প্রকৃতি ও মানুষের জীবনবোধ সম্পর্কে। এই উপন্যাসের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের এক চিরন্তন চিত্র এঁকেছেন।
অন্যান্য উপস্থিত সদস্যবৃন্দ
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল মিয়া, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তৃণা কবির, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ফারদিন হাসান, বন্ধু রুপা চন্দ ও রিয়াজুল ইসলাম। সবার অংশগ্রহণে এই আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।



