ছবি: ফ্রিপিক
ঐতিহাসিক হেজাজভূমি, যা বর্তমানে সৌদি আরবের দক্ষিণাংশ থেকে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো বিভিন্ন দিকে পথ ছড়িয়ে পড়েছে পবিত্র নগরী মক্কার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। এসব পথ ধরেই সারা দুনিয়া থেকে মুসলমানরা প্রতি বছর হজ করতে আসেন।
সময়ের পরিক্রমায় এখন সড়ক ও সমুদ্র পথের চেয়ে আকাশপথে অনেক বেশি হজযাত্রীর আগমন ঘটে। অথচ ১০০ বছর আগেও হজ সফরের জন্য সড়ক ও নৌপথের ওপরই নির্ভর করতে হতো। এসব পথের বা রুটের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল সিরিয়ার দামেস্ক হয়ে মক্কায় আসার পথ। মূলত মক্কা তথা হেজাজের সঙ্গে লেভান্টের বা পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসাবাণিজ্যের প্রাচীন পথটিই কালক্রমে হজের পথে রূপান্তরিত হয়।
হেজাজ রেলপথের ইতিহাস
ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের অন্তিমলগ্নে এই পথেই ইস্তাম্বুল থেকে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ১৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হেজাজ রেলপথ নির্মিত হয়েছিল, যা ৪০ দিনের সফরকে মাত্র পাঁচদিনে নামিয়ে এনেছিল। তবে সামরিক উদ্দেশে নির্মিত এই রেলপথ মাত্র একযুগ সচল ছিল।
এই পথের একটা অংশ ছিল আজকের জর্ডানের ওপর দিয়ে। জর্ডানের অংশের হজ পথটির উত্তরদিকে তৃণভূমি আর দক্ষিণদিকে উষর মরুভূমি। মাঝখানে নির্মিত হয়েছিল দুর্গ ও জলাধারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো যা হজযাত্রীদের তো বটেই, বছরজুড়ে বাণিজ্য কাফেলার জন্যও ব্যবহৃত হতো।
বইয়ের আলোচনা
অ্যান্ড্রু পিটারসেন সম্পাদিত দ্য মেডিয়াভেল অ্যান্ড অটোম্যান হজ রুট ইন জর্ডান: অ্যান আর্কিওলজিকাল অ্যান্ড হিস্টোরিকাল স্টাডি (জর্ডানে মধ্যযুগীয় ও ওসমানিয়া হজ পথ: একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক সমীক্ষা) বইটিতে এসবের ওপরই আলোকপাত করা হয়েছে।
বইটিতে জর্ডানের হজ পথকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও এই পথের সিরিয়া ও সৌদি আরবের অংশে অবস্থিত জনবসতি, দুর্গ, বিশ্রামাগার ও জলাধারের বিবরণীও উঠে এসেছে। মূলত ষোড়শ শতক থেকে ওসমানিয়া শাসকদের দ্বারা নির্মিত ও সংরক্ষিত এসব অবকাঠামো পরবর্তীকালে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে মূল্যবান হয়ে ওঠে। এসবের অনেকগুলো ধ্বংস হয়ে গেলেও কিছু অবশিষ্ট আছে আলোচ্য বইটিতে যেগুলোর একটি পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতকে এই পথের রাজনৈতিক ও সামরিক তাৎপর্য সহ ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বোপরি কালাত উনাইজা নামক দুর্গের খনন কাজের ফলাফলের বিবরণ দেওয়া হয়েছে যা থেকে দুর্গে বিভিন্ন সময় যাত্রা বিরতীকারী হজযাত্রী ও অবস্থানকারী সেনাদের সম্পর্কে কিছু ধারণা মেলে।
বইটিতে জর্ডানের হজ পথকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও এই পথের সিরিয়া ও সৌদি আরবের অংশে অবস্থিত জনবসতি, দুর্গ, বিশ্রামাগার ও জলাধারের বিবরণীও উঠে এসেছে।
দ্য মেডিয়াভেল অ্যান্ড অটোম্যান হজ রুট ইন জর্ডান: অ্যান আর্কিওলজিকাল অ্যান্ড হিস্টোরিকাল স্টাডি; অ্যান্ড্রু পিটারসেন (সম্পাদক), দ্য কাউন্সিল ফর ব্রিটিশ রিসার্চ ইন লেভেন্ট এবং অক্সবো বুকস, অক্সফোর্ড, ২০১২।



