একা ভ্রমণ: নিরাপদ ও বিপজ্জনক দেশের তালিকা প্রকাশ
একা ভ্রমণ শান্তিপূর্ণ ও শক্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হতে পারে, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এটি ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম অনলাইন ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস স্কয়ারমাউথ একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে, যা একা ভ্রমণকারীদের জন্য বিশ্বের নিরাপদ ও বিপজ্জনক দেশগুলোর একটি তালিকা উপস্থাপন করে।
গবেষণা পদ্ধতি: কীভাবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে?
স্কয়ারমাউথ প্রথমে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী ১১৩টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করে। এই সূচক কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, যেমন শিক্ষা, আয় এবং জীবনমান পরিমাপ করে। এরপর তারা দেশগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় অপরাধের হার, রাতে একা হাঁটার সময় মানুষের নিরাপত্তাবোধ, স্বাস্থ্যসেবার মান, গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে দেশের অবস্থান এবং অন্যান্য সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সূচক বিবেচনা করে।
প্রতিটি বিষয়কে শূন্য থেকে ১০ স্কেলে মূল্যায়ন করা হয় এবং সেসবের গড় স্কোরের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে কোন দেশ বেশি নিরাপদ আর কোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যে দেশ কম নম্বর পায়, সেটি বেশি নিরাপদ। আর যে দেশ বেশি নম্বর পায়, সেটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে এই তালিকা শুধু একটি সাধারণ ধারণা দেয়। কারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় কোনো দেশের নিরাপত্তা বদলে যেতে পারে। এ ছাড়া কোনো দেশ সাধারণভাবে ‘নিরাপদ’ হলেও নারী বা সংখ্যালঘুদের জন্য তা সব সময় সমান নিরাপদ নাও হতে পারে।
শীর্ষ নিরাপদ দেশ: স্যান ম্যারিনো শীর্ষস্থানে
বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিত স্যান ম্যারিনো দেশটি একা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। দক্ষিণ ইউরোপের এই ছোট, স্থলবেষ্টিত ও স্বাধীন রাষ্ট্রটির স্কোর মাত্র ০.৭৮ (১০-এর মধ্যে)।
এর নিরাপত্তার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা
- কম পরিবেশগত ঝুঁকি
- উচ্চ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
- প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ রাতে একা বের হলেও নিরাপদ বোধ করেন
অন্যান্য নিরাপদ দেশের তালিকা
স্যান ম্যারিনো ছাড়াও আরও ৯টি দেশ একা ভ্রমণের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। শীর্ষ নিরাপদ দেশগুলোর তালিকায় আছে যথাক্রমে:
- অ্যান্ডোরা
- সিঙ্গাপুর
- অস্ট্রিয়া
- চেক প্রজাতন্ত্র
- কাতার
- এস্তোনিয়া
- ব্রুনেই
- ডেনমার্ক
- স্লোভেনিয়া
তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে কাতারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শীর্ষ বিপজ্জনক দেশ: ভেনেজুয়েলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ
কোনো দেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয় তখনই, যখন সেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর মানে হলো সেখানে কিছু সমস্যা বেশি দেখা যায়; যেমন—দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং সার্বিকভাবে খারাপ নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
শীর্ষ ১০ বিপজ্জনক দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ভেনেজুয়েলা। এরপর যথাক্রমে আছে:
- পেরু
- গ্যাবন
- কলম্বিয়া
- বলিভিয়া
- জ্যামাইকা
- গায়ানা
- ইকুয়েডর
- ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
- দক্ষিণ আফ্রিকা
একা ভ্রমণে নিরাপদ থাকার টিপস
এসব দেশে একা ভ্রমণ করা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও কিছু সতর্কতা নিলেই আরও নিরাপদ থাকা সম্ভব। যেমন:
- ভ্রমণ পরিকল্পনা শেয়ার করুন: আপনার পরিবার বা বন্ধুদের জানিয়ে রাখুন আপনি কোথায় যাচ্ছেন এবং কোথায় থাকবেন। হোটেলের রিসেপশনেও আপনার পরিকল্পনা জানিয়ে রাখতে পারেন। এ ছাড়া ফোনের ডেটা চেক করে নিন, যাতে প্রয়োজনে সহজে যোগাযোগ করা যায়।
- আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলাফেরা করুন: চোর বা ছিনতাইকারীরা সাধারণত এমন মানুষকে টার্গেট করে, যারা হারিয়ে গেছে বা বিভ্রান্ত মনে হয়। তাই টাকা ও ফোন নিরাপদে রাখুন। যদি বাসস্টপ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, তাহলে ম্যাপ দেখে নিন অথবা পুলিশের সাহায্য নিন।
- দামি জিনিস নিরাপদে রাখুন: গয়না, টাকা ও পাসপোর্ট হোটেলের লকারে রেখে দিন। বাইরে গেলে শুধু প্রয়োজনীয় টাকা, পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে নিন। এ ছাড়া পাসপোর্টের একটি ফটোকপি সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
- পরিবেশ বুঝে চলুন: অনিরাপদ বা নির্জন জায়গা এড়িয়ে চলুন। অপরিচিত কারও সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
শেষ কথা
একা ভ্রমণ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হতে পারে, যদি আপনি সচেতন ও প্রস্তুত থাকেন। সঠিক তথ্য জানা এবং সতর্ক থাকা—এ দুটিই আপনাকে নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ উপহার দেবে। এই গবেষণার ফলাফল ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে সর্বদা বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া উচিত।



