পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে এখানে ঘুরতে আসেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয় পোষা বিড়ালটিকে সঙ্গে নিয়ে কেল্লা প্রাঙ্গণে সময় কাটান।
মোগল স্থাপত্য ও খোলামেলা পরিবেশ
মোগল আমলের স্থাপত্য, খোলামেলা পরিবেশ আর সতেজ ঘাসে ঘেরা এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে সময় কাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ বলেন, বইয়ের পাতায় লালবাগ কেল্লার ইতিহাস পড়লেও সরাসরি এসে দেখে অন্য রকম অনুভূতি হয়েছে।
পরিবার নিয়ে আগমন
পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে আসা শামীম হোসেনের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস ও সন্তান শাহদাত, ফাতিহা ও ফাবিহা। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে আগে কখনো আসা হয়নি। আজ ওদের প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ও খোলামেলা পরিবেশ দেখাতে নিয়ে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চারা এখনো পুরাকীর্তির ইতিহাস বুঝবে না। তারা কোনো কিছু সুন্দর হলে একটু দেখবে, দৌড়াবে, সবুজ ঘাসে নিজেদের মতো করে খেলবে। আসলে বাচ্চাদের জন্য খোলামেলা জায়গা দরকার, যা ঢাকায় নেই। তাই ওদের নিয়ে এখানে এলাম। একই সঙ্গে কেল্লা দেখা হলো, খোলামেলা পরিবেশেও ঘোরাঘুরি হলো।’
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
ছোট ভাই সাবিরকে কোলে নিয়ে লালবাগ কেল্লা ঘুরে ঘুরে দেখছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিম। সে জানায়, মালিবাগ থেকে বাবা, মা ও আরেক ভাইসহ এসেছে। বইয়ে লালবাগ কেল্লার ইতিহাস পড়েছে, কিন্তু সামনাসামনি দেখা হয়নি। তাই পরিবারসহ ঘুরতে এসেছে।
সাজিমের বাবা শামীম রেজা বলেন, ‘ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এমন খোলামেলা জায়গা অনেক বেশি স্বস্তির। পরিবার নিয়ে পুরোনো প্রত্নতত্ত্ব দেখলাম, নির্মল পরিবেশ উপভোগ করলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য এমন খোলামেলা পরিবেশ দরকার। তাই ঈদের ছুটিতে ওদের ঘুরতে নিয়ে এসেছি। ইতিহাস পড়তে গেলে এটা ওদের জন্য অনেক বেশি সহায়ক হবে।’
পোষা প্রাণীর সাথেও আসা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা ব্যবসায়ী শফিক আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী মিহির ইসলামের সঙ্গে এসেছে তাদের পোষা বিড়াল ‘এলেক্স’। শফিক বলেন, ‘ঈদ উদ্যাপনটা আরও চমৎকার করতে খোলামেলা পরিবেশে ঘুরতে আসা। আজকের আবহাওয়া চমৎকার। বিশেষ করে, আমার পোষা বিড়াল এলেক্সের জন্য আসা। সারাক্ষণ বাসায় থেকে ও বিরক্ত হয়ে পড়ছিল।’
শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের মন্তব্য
গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের সকাল থেকেই লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীরা ভিড় করতে শুরু করেন। বিকেলের দিকে ভিড় আরও বেড়ে যায় বলে জানান সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা হামিদুর রহমান। সেই ভিড় আজও অব্যাহত ছিল।



