ঈদে রাঙ্গামাটি: পাহাড়-হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্যে চার দর্শনীয় স্থান
ঈদে রাঙ্গামাটি: পাহাড়-হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্যে চার দর্শনীয় স্থান

সবুজ পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদ মিলেমিশে একাকার করেছে বৈচিত্র্যের রাঙ্গামাটিকে। এমন চিত্র অন্য কোথাও দেখা যায় না। ঈদের ছুটিতে যদি এমন নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে চান তাহলে ঘুরতে আসতে পারেন রাঙ্গামাটি। এই ফিচারে তুলে ধরা হলো রাঙ্গামাটির এমন চারটি দর্শনীয় স্থান, যেখানে ঈদের ছুটিতে ঘুরে এসে মিলতে পারে অন্যরকম আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি।

ঝুলন্ত সেতু

বিনোদনের জন্য পর্যটন কর্পোরেশন ১৯৮৫ সালে রাঙামাটি শহরে নির্মাণ করা হয়েছে ঝুলন্ত সেতু। এ সেতুটিকে ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ বলা হয়। সেতুটির জন্য দেশ এবং দেশের বাইরে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে রাঙ্গামাটি। সেতুর আশেপাশেই রয়েছে মোটেল ও কটেজ। তাই ঘুরতে আসলে থাকার জন্য কোনো ভয় নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দমত রুম বুকিং নিতে পারেন।

আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক

রাঙ্গামাটির আসামবস্তী থেকে কাপ্তাই অভিমুখী বিকল্প ১৮ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা সংযোগ সড়কটি এখন স্বর্গীয় সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। এ সড়কে যে কেউ একবার ঘুরতে এলে সহজে ফিরে যেতে ইচ্ছে করবে না। একদিকে মেঘের লুকোচুরি খেলা, অন্যদিকে পাহাড়-হ্রদের মিতালি আর সবুজ অরণ্যের সমন্বয়ে প্রকৃতি এখানে একাকার হয়ে গেছে। যেন বিধাতার এক অপরূপ প্রাকৃতিক লীলাখেলা। এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কখন বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলে ওঠে, তারই ঠিক থাকে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধানানন্দ মহাস্থবীর বনভান্তের জন্মস্থান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জেলা সদরের বড়াদাম এলাকার মোরঘোনায় কাপ্তাই হ্রদে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া তার প্রতি সম্মান জানিয়ে মূল সড়কের ওপর নির্মিত হয়েছে বনভান্তের স্মৃতিমন্দির। এটি বর্তমানে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এখানে হাজারো ভক্তের ভিড় থাকে। ফলে আশপাশে গড়ে উঠেছে চা-স্টল ও ছোট ছোট হাটবাজার। পাহাড়ি নারীরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পাহাড়ি তরকারি নিয়ে এসব বাজারে হাজির হন। হ্রদে দেখা যায় পাহাড়ি নারীদের মাছ ধরা ও মাছ শিকার। এই সড়কের বড়াদাম এলাকায় দাঁড়ালে এক নজরেই দেখা যায় পুরো রাঙ্গামাটি শহর। দূর থেকে শহরটিকে মনে হয় যেন অথই সাগরের মাঝে একটি দ্বীপ। সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে ভুঁড়িভোজ সারতে পারেন এই সড়কের পাশে প্রকৃতির ছায়ায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়। এর মধ্যে ‘বার্গি লেক’, ‘বড় গাঙ’ ও ‘বেড়ান্নে রেস্টুরেন্ট’ উল্লেখযোগ্য।

বনভান্তের বৌদ্ধ মন্দির

শহরের রাজবাড়ি এলাকায় দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থ স্থান বনভান্তের বৌদ্ধ মন্দিরটিও ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকরা। বিশাল আকৃতির মূর্তি, প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনাকে আলাদা শান্তি প্রদান করবে।

কাপ্তাই হ্রদ পরিভ্রমণ

রাঙ্গামাটি আসবেন আর কাপ্তাই হ্রদ পরিভ্রমণ করবেন না তাই কি হয়! হ্রদের স্বচ্ছ নীলাভ জলরাশির খেলা, জেলেদের মাছ ধরা, সুউচ্চ পাহাড় ছুঁইয়ে পাহাড়ি ঝর্নার জল গড়ানোর দৃশ্য, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাস ভিত্তিক ট্রাইবেল ভিলেজ সব দেখতে পারবেন কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ করলে।

যেভাবে রাঙ্গামাটি যাবেন

ঢাকার কমলাপুর, ফকিরাপুল, টিটি পাড়া, কলাবাগান এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে গেলে ঢাকা-রাঙ্গামাটিগামী বাস পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে নিজেদের পছন্দের বাসে নির্ধারিত ভাড়া মিটিয়ে চলে আসতে পারবেন বৈচিত্র্যের শহর রাঙামাটিতে।

থাকা-খাওয়া

রাত্রী যাপনের জন্য রাঙামাটি শহরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য- মোটেল জর্জ, পর্যটন মোটেল, হোটেল নিডস, প্রিন্স হোটেলসহ উল্লেখযোগ্য। হোটেলে আগে থেকে বুকিং করে রাখলে ভাল। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগের ঠিকানা হোটেলগুলোর ওয়েবসাইটেই পাবেন। খাওয়ার জন্য এসব আবাসিক হোটেলের সঙ্গে এবং আশেপাশে রয়েছে উন্নতমানের খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট।