স্বপ্নে পানাহার বা স্বপ্নদোষে রোজা ভাঙে না, ইসলামী বিধান স্পষ্ট
স্বপ্নে পানাহার বা স্বপ্নদোষে রোজা ভাঙে না

স্বপ্নে পানাহার বা স্বপ্নদোষে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না

রোজা রেখে রোজার দিনে যদি কেউ স্বপ্নে পানাহার করে, কিছু খায় কিংবা কারও স্বপ্নদোষ হয়, তাহলে তার রোজার কি ভেঙে যাবে? এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন যা অনেক মুসলিমের মনে উদয় হয়। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, এর উত্তর স্পষ্ট: রোজা রেখে দিনের বেলায় স্বপ্নে কোনো কিছু পানাহার করলে বা খেতে দেখলে কিংবা স্বপ্নদোষ হলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না

কেন রোজা ভাঙে না?

এর প্রধান কারণ হলো, ঘুমে বা স্বপ্নে এটি কারও ইচ্ছাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্বপ্নে পানাহার বা খাওয়া দ্বারা প্রকৃত পানাহার বা খাওয়া হয় না এবং ক্ষুধা নিবারণ ও শারীরিক শক্তিও অর্জন হয় না। তাই এতে রোজা ভাঙবে না, এমনকি রোজা হালকাও হবে না এবং সওয়াবও কমবে না। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই রোজা সম্পূর্ণ করবেন। কাজা বা কাফফারা কিছুই লাগবে না।

ইসলামী ফতোয়ার ব্যাখ্যা

উল্লেখ্য, সজ্ঞানে রতিক্রিয়ায় রোজা ভঙ্গ হয়। ইচ্ছাকৃত হলে কাজা ও কাফফারা উভয়টা আদায় করতে হয়। আর অনিচ্ছায় হলে শুধু কাজা আদায় করতে হয়। স্বপ্ন যেহেতু স্বেচ্ছায় নয় এবং সজ্ঞানেও নয়, তাই রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না। স্বাভাবিকভাবেই রোজা পূর্ণ করবেন এবং কাজা-কাফফারা কিছুই প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজনমতো অজু-গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ আদায় করতে হবে। এই বিধান ফতোয়ায়ে শামি সহ বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোজার সময় স্বপ্ন সম্পর্কে সচেতনতা

রমজান মাসে রোজা রাখা মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র কর্তব্য। অনেক সময় স্বপ্নে পানাহার বা অন্যান্য ঘটনা দেখা গেলে ভয় হতে পারে যে রোজা ভেঙে গেছে। কিন্তু ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, এ ধরনের স্বপ্নে রোজার কোনো প্রভাব পড়ে না। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই রোজাদারদের উচিত এ নিয়ে অহেতুক চিন্তা না করে রোজা সঠিকভাবে পালন করা এবং নামাজ-ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সর্বোপরি, রোজা রেখে স্বপ্নে পানাহার বা স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না বলে ইসলামী বিধান স্পষ্ট। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা যা রোজার সময় মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।